| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ১৮:২২:৪০:অপরাহ্ন  |  ১৩৬ বার পঠিত
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ, নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২২ জন।

ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনাসহ নানা স্থাপনা। অনেক এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।

কয়েক ঘণ্টা পর কিছু সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন জোলিবির একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি উপকূলীয় প্রদেশ সারাঙ্গানিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অনেকেই ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিকম্পের কারণে প্রদেশটিতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর জেনারেল সান্তোসে নিহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এছাড়া সাউথ কোটাবাতো ও সুলতান কুদারাত প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা স্থানীয় প্রশাসনের পাঠানো তথ্য যাচাই করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্নিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। 

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “জাতীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং মিন্দানাওকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না।”

ভূমিকম্পটি ফিলিপাইনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রথম দিনেই আঘাত হানে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি বিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের কাঁপতে থাকা মাটিতে বসে থাকতে দেখা গেছে। একই ভিডিওতে একটি টিনের ছাউনি ধসে পড়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আরও ১৩০টির বেশি আফটারশক (পরাঘাত) রেকর্ড করা হয়েছে, যেগুলো ছিল ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার। এসব পরাঘাত স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। বেশিরভাগই ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই শেষ হলেও মাঝে মাঝে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির ভিসায়াস অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে ভূমিকম্পের পর জাপান উপকূলে এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করে। পরে জাপানের ওকিনাওয়া ও ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জে ছোট আকারের সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকাতেও কয়েক সেন্টিমিটার থেকে ১ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ দেখা গেছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪