নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, নারীদের মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ নম্বর দাগের সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মধ্যে দুই শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে মৃত সৈয়দ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সালেহা বেগম ও তার প্রবাসী ছেলে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম তুলি, তার স্বামী মিজানুর মোল্যা এবং ভাই তরিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা হলে রায় তাদের পক্ষে আসে। কিন্তু প্রতিপক্ষ রায় অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসায় বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার দুপুরে প্রবাসী নাজমুল ইসলামের বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে মিজানুর মোল্যা ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা নারীরা দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় নাজমুল ইসলামের চাচাতো বোন হাসিবা আক্তার এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী সালেহা বেগম ও শামীমা আক্তার মুন্নি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিক তারাই। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে এবং জমি জবরদখল করা হয়েছে। বর্তমানে সেই দখল বজায় রাখতে প্রতিপক্ষ মিথ্যা হামলার নাটক সাজিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু