ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়াকে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের ইভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি যা করার সম্ভব, তা-ই করব। দুই পক্ষেই অনেক তরুণ প্রাণ যুদ্ধক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার উচিত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।”
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণা নিয়ে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনাকে “খুবই ভালো” বলে অভিহিত করেন। পরে দুই নেতার মধ্যে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্সি ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনার ছবিও প্রকাশ করেছে।
রুশ হামলার ছবি দেখান জেলেনস্কি
দুই ইউরোপীয় কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, বৈঠকে জেলেনস্কি ট্রাম্পকে সোমবার কিয়েভের পেচেরস্ক লাভরা মঠে রুশ হামলার পরিণতির ছবি দেখান। তাদের একজন বলেন, হামলার ঘটনায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্য একজনের মতে, ট্রাম্পকে এসব ছবি দেখানো জেলেনস্কির জন্য মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করাই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প
ইউরোপীয় নেতারা চাইলেও মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলে জানিয়েছেন দুই ইউরোপীয় কূটনীতিক।
তবে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের অন্তর্বর্তী চুক্তির ফলে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ায় রাশিয়ার তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে দেওয়া কিছু ছাড় প্রত্যাহারের অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও বৃহত্তর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি কিছু বলেননি।
‘ইউক্রেনের পক্ষেই যুদ্ধের গতি বদলাচ্ছে’
ইউরোপীয় নেতাদের মতে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সাফল্যের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখন কিয়েভের অনুকূলে যাচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এক্সে লিখেছেন, “ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। রাশিয়ার ক্লান্তি এখন স্পষ্ট। এটাই ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থন আরও জোরদার করার সময়।”
একজন ফরাসি কূটনীতিক জানান, জি-৭ নেতারা একমত হয়েছেন যে যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপ্রকৃতি এখন ইউক্রেনের পক্ষে। তাই কিয়েভকে আরও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
ইরান চুক্তি নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ
জি-৭ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করতে চেয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, অগ্রাধিকার হচ্ছে এমন একটি “মজবুত ও চূড়ান্ত চুক্তি” নিশ্চিত করা, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
সম্মেলনের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল। বিকল্প বাণিজ্যিক রুট নিয়েও আলোচনা করেছেন জি-৭ নেতারা।
ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত” হবে।
তবে ইউরোপীয় মিত্রদের আশঙ্কা, অনভিজ্ঞ মার্কিন আলোচক দল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি