স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আগেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডরের জন্য শেষ ষোলোতে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। এমন সমীকরণের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল।
নিউ জার্সিতে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে নিচু শটে বল জালে জড়ান লেরয় সানে। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।
গোলের পর ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিটের ওপর ফাউলের অভিযোগ তুলে রেফারির কাছে আপত্তি জানান। তবে রেফারি সেই দাবি নাকচ করে দিলে গোল বহাল থাকে।
টুর্নামেন্টে আগের দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল করা দল হিসেবে নকআউট পর্বের আগে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শক্তিশালী একাদশই মাঠে নামায় জার্মানি। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ইকুয়েডরের সামনে ছিল জার্মানির টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রা থামানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তবে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরান গনসালো আঙ্গুলো।
মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান এনমেচা। সেই সুযোগে বল দখলে নিয়ে বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েন আঙ্গুলো। এরপর জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকা নয়্যারের পক্ষে বলটি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। আঙ্গুলোর গোলে অষ্টম মিনিটেই ১-১ সমতায় ফেরে ইকুয়েডর এবং ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গোলের পর গ্যালারিতে থাকা ইকুয়েডরের হলুদ জার্সিধারী সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। তাদের সমর্থনে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে দলটি।
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্রুত সমতায় ফিরতে পারায় ম্যাচটি এখন রূপ নিয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। ফলে নিউ জার্সিতে জমে উঠেছে জার্মানি-ইকুয়েডরের গ্রুপ সেরার লড়াই।