| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পাচার : আনসার সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৮, ২০২৬ ইং | ১৩:২৭:৫৩:অপরাহ্ন  |  ৫৯৪ বার পঠিত
বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পাচার : আনসার সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বাংলাদেশি একটি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি করে। মামলার বাদী বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস পণ্য ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়।

খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। পরে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি পাওয়া যায়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, এরপর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সর্বশেষ স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরের প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

এদিকে, চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

রিপোর্টার্স/ এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪