রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় এ আদেশ দেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৫ জুলাই জারি করা চিঠিতে সূত্র হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো পত্রের স্মারকের উল্লেখ করা হয়।
নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানার সই করা একটি চিঠি গত ৫ জুলাই পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়।
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ওসি শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব একজন উপপুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ জুন সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক পদ থেকে সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক হিসেবে বদলি হন। পরে সেখান থেকেই তাকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তিনি কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ শরীফ। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। একজন স্যার আমাকে ভুল বুঝে আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। আমি তাকে বারবার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারপরও তিনি বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ক্ষতি করছেন। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম