| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৩ দিনের বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তার পানি, ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৭, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৬:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৩৬৮ বার পঠিত
৩ দিনের বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তার পানি, ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় তিস্তাসহ উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পাশাপাশি দেশের ১২ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটি কেন্দ্রে অপরিবর্তিত রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ভারতের উড়িষ্যা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১৬৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার, রামগড়ে ১০৫ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৯৩ মিলিমিটার এবং ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ভারতের উজানেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরে আবার বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। এ সময়ে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪