গাজীপুর প্রতিনিধি: নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষকে সচেতন করার দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ 'জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫' পেয়েছেন বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা মো. মনির হোসেন (নদী মনির)।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষকে সচেতন করে তোলা এ যেন তার নিত্যদিনের ব্রত। আর সেই একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
গত ৭ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার বিভাগে তাকে এ পদকের জন্য মনোনীত করা হয়।
'জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)' অনুযায়ী ব্যক্তিগত পর্যায়ে 'পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার' শ্রেণীতে স্থান পান মনির হোসেন। তিনি বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নদীর পরিবেশ, প্রতিবেশ ও নাব্যতা রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ এর জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদক তুলে দেন।
পুরস্কার হিসেবে মনির হোসেন পেয়েছেন ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের সোনার সমপরিমাণ বাজারমূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।
পেশায় শিক্ষক মুহম্মদ মনির হোসেন ২০০৯ সাল থেকে নদী, পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি নদী, পরিবেশ ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা নদীকাহন-এর সম্পাদক। দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫০টি নদী পরিদর্শন করে নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা গড়ে তুলেছেন এবং দেশের ৪৪ জেলায় সহস্রাধিক তরুণ নদী সংরক্ষণকর্মী তৈরি করেন।
এছাড়াও নিয়মিত জাতীয় নদী সম্মেলন, জাতীয় নদী উৎসব, পার্বত্য নদী সম্মেলন ও উপকূলীয় নদী সম্মেলনের আয়োজনের পাশাপাশি 'রিভার টক' 'এসো নদীর গল্প শুনি' এবং 'মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড' চালু করেন।
গবেষণা ও লেখালেখিতে তিনি 'গাজীপুরের নদী' 'পার্বত্য অঞ্চলের নদী' ও 'নদী ও জলে ভ্রমণ'সহ তিনটি গ্রন্থ এবং ১১টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত 'শঙ্খ নদী: দ্য আমাজন অব বেঙ্গল' প্রামাণ্যচিত্রটি ২০১৯ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশের 'মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেন।
মুহম্মদ মনির হোসেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, স্থানীয় আড়াল গিয়াস উদ্দিন লস্কর উচ্চ বিদ্যালয় (আড়াল জিএল) থেকে এসএসসি এবং জয়দেবপুর কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন।