স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জন্য এক বিশেষ অধ্যায়। চলমান বিশ্বকাপসহ মোট ২০টি আসরে অংশ নিয়ে ছয়বার শেষ চারের মঞ্চে উঠেছে লাতিন ফুটবলের এই পরাশক্তি। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেমিফাইনালে ওঠার পর প্রতিবারই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
সর্বশেষ রোববার কানসাসে অনুষ্ঠিত শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে, নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। ফলে আগামী বুধবার আটলান্টায় ফুটবল বিশ্বের বহু প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ফুটবল মহলের দৃষ্টি এখন এই লড়াইয়ের দিকে। একদিকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে নিজেদের সেমিফাইনালে অজেয় থাকার রেকর্ড ধরে রাখার লক্ষ্যে ইংল্যান্ড। ম্যাচটিকে ঘিরে আগেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমর্থকদের মধ্যে, আর মাঠের লড়াই নিয়েও প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার রেকর্ড প্রায় নিখুঁত। তাদের আগের পাঁচ সেমিফাইনালের সবকটিতেই এসেছে জয়। ১৯৩০ থেকে ২০২২—প্রতিটি আসরেই শেষ চারের বাঁধা পেরিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
প্রথম বিশ্বকাপেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে ওঠে তারা। এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার একক জাদুতে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে ফাইনালে তোলেন ম্যারাডোনা। পরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপও জেতে আকাশী-সাদারা। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর ‘শতাব্দীর সেরা গোলে’ ইংল্যান্ড বধের পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ছিল বেলজিয়াম।
১৯৯০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচটি টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। সেবার গোলকিপার সার্জিও গয়কোচিয়ার নৈপুণ্যে ফাইনালে পৌঁছে দলটি।
দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় পায় তারা। ওই ম্যাচে সার্জিও রোমেরো ডাচদের দুটি শট ঠেকিয়ে মেসিকে প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বাদ এনে দেন।
সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। সেবার লিওনেল মেসির অসাধারণ অ্যাসিস্ট ও জুলিয়ান আলভারেজের জোড়া গোল আর্জেন্টিনাকে শিরোপার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। পরে তিন যুগের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ জেতে তারা।
এর আগে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ফরম্যাট ভিন্ন হওয়ায় সেমিফাইনাল না থাকলেও সরাসরি ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। সেবারও শিরোপা জিতেছিল তারা।
এবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা। তবে পরিসংখ্যান যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকুক, ফুটবলের অনিশ্চয়তায় ইংল্যান্ডও নিজের সামর্থ্য নিয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে নামবে সমান আত্মবিশ্বাসে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি