স্টাফ রিপোর্টার: মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (Pre-litigation Mandatory Mediation) কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারাধীন মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে সাড়ে ৪০ লাখ থেকে ২০ লাখে নামিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের ওপর ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ কমাতে মধ্যস্থতা কার্যক্রম একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অনেক বিরোধ আদালতের বাইরে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, ফলে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতাও কমে আসবে।
তিনি আদালতগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি কোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবী বা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির অধীনস্থ প্রশিক্ষিত মিডিয়েটরের কাছে পাঠানো যেতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিচারাধীন বা পোস্ট-ফাইলিং মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে তফসিলভুক্ত আইনসমূহের আওতাধীন বিরোধগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সাড়ে ৪০ লাখ থেকে ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে বিচার বিভাগের ওপর চাপ কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত প্রতিকার পাবেন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মামলাজনিত সময়, অর্থ ও হয়রানি কমবে। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষও এর সুফল ভোগ করবেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে যে সরকার শুধু মামলা কমানোর জন্য নয়, বরং অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে।
তিনি জনস্বার্থে এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি