রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তবে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেন না তারা। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আইডিবি কাউন্সিল হলে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আপনাদেরকেও (শহীদ ও আহত পরিবার) দেখানো হচ্ছে। আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। কেন ভয় করব? আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু এখন আবার দেশকে পুরোনো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াত আমির বলেন, সেই সরকারের আমলে শিক্ষাঙ্গনগুলো ছিল সবচেয়ে খারাপ। গেস্টরুম, গণরুম করে সেখানে টর্চার সেল গঠন করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েদের হলও এর বাইরে ছিল না। এখন মনে হচ্ছে আবার আমরা সেই একই অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সেই পথে যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের হাতে সবকিছু নেই। আমরা সরকারে যাইনি, এতে কোনো আফসোস নেই। কিন্তু আমরা সংসদে আছি। সংসদে দেশবাসীর হয়ে, শহীদদের কণ্ঠ হয়ে আমরা কথা বলতে থাকব।
জামায়াত আমির দাবি করেন, তাদের বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও লোভ-টোপ দেওয়া হয়েছে, তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, গণভোট আপনারা চাইলেন, আমরা চাইলাম। এখন আপনারা মানেন না। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। এখান থেকে সরতে পারব না। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবে বলে তারা আশাবাদী। বিচারের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা প্রতিশোধ চান না, তবে বিচার চান।
তিনি বলেন, শুধু কারো বাবার বিচার, নিজের বিচার, মায়ের বিচার, বোনের বিচার, ভাইয়ের বিচার হবে, আর এই দেশের নিরীহ জনগণ যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার হবে না এটা হতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, সময় যতই লাগুক, এসব ঘটনার বিচার হবে। কোনো কোনো বিচার ৫০ বছর পরে হয়েছে, কোনোটা ২১ বছর পরে হয়েছে। এই বিচারও ইনশাআল্লাহ হবে।
জামায়াত আমির বলেন, তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন যেন জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন, ভুল মানুষের হয়, দলের হয়, সরকারের হয়, বিরোধী দলেরও হতে পারে। আমরা মনে করি, সুস্পষ্টভাবে আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন। ফিরে আসেন, দাবি মেনে নেন।
তিনি আরও বলেন, দেশ কঠিন সংকটে রয়েছে এবং দেশ গঠনে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ হচ্ছে এবং তাদের ওপরও আক্রমণ হচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই তাদের অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আক্রমণ করেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু জাতির অধিকারের জন্য আমরা যা বলার, বলে যাব। আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, বীরদের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হলে জাতি গোলামে পরিণত হবে। তিনি বলেন, গোলাম হয়ে একদিনও বাঁচতে চাই না। বরং বীর হয়ে এক সেকেন্ড বাঁচতে চাই।
মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা পরিবার এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম