অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন নেতৃত্বাধীন এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চারটি মৌলিক নীতিতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর লেখক আসলি বালি ও স্যামুয়েল ময়েন। ‘আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বদলে কী ধরনের ব্যবস্থা আসা উচিত?’ শীর্ষক এক নিবন্ধে তারা বলেন, পুরোনো বিশ্বব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নয়, বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
লেখকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ক্রমশ কমছে এবং এর সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা। তবে এই পরিবর্তনকে সংকট হিসেবে দেখার পাশাপাশি একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক বহুপাক্ষিক বিশ্ব গঠনের সুযোগ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।
নিবন্ধে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী তথাকথিত ‘আমেরিকান শান্তি’ বা ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ কখনোই সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর ছিল না। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশের কাছে এই ব্যবস্থা বৈষম্য ও দ্বৈত মানদণ্ডের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
লেখকদের ভাষ্য, অতীতের বিশ্বব্যবস্থাকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার পরিবর্তে যুদ্ধ প্রতিরোধে কার্যকর একটি নতুন আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। সে লক্ষ্যে তারা চারটি মৌলিক নীতির প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রথমত, আত্মরক্ষার অধিকারের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হুমতি বা নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে আগাম হামলাকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি দখল, বসতি স্থাপন কিংবা জনসংখ্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা সৃষ্টি করেও ভূখণ্ড দখল বৈধ হতে পারে না।
তৃতীয়ত, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ বন্ধে অঙ্গীকার প্রয়োজন। আগ্রাসনের শিকার রাষ্ট্রকে সহায়তা করা এক বিষয়, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
চতুর্থত, আগ্রাসন, যুদ্ধাপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যের ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না হলে আঞ্চলিক সংঘাত সহজেই বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতায় পরিণত হতে পারে।
তাদের মতে, এই চারটি নীতি—আত্মরক্ষার নামে প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ নয়, শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ড দখল নয়, অন্য দেশের মাটিতে প্রক্সি যুদ্ধ নয় এবং আগ্রাসনকে সহায়তা করে এমন অস্ত্র সরবরাহ নয়—একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার ন্যূনতম ভিত্তি হতে পারে।
লেখকদের দাবি, নতুন বিশ্বব্যবস্থা যেন কোনো একক পরাশক্তির প্রভাব বা দ্বৈত মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সংযম ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ