| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘ছাত্রলীগ-যুবলীগকে চিনলেন কীভাবে’—প্রশ্নে সাক্ষীর জবাব ‘মাথায় হেলমেট ছিল’

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৮, ২০২৬ ইং | ১৮:৪৭:০৫:অপরাহ্ন  |  ২১৪ বার পঠিত
‘ছাত্রলীগ-যুবলীগকে চিনলেন কীভাবে’—প্রশ্নে সাক্ষীর জবাব ‘মাথায় হেলমেট ছিল’

স্টাফ রিপোর্টার: চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের কীভাবে শনাক্ত করেছেন, তা নিয়ে সাক্ষী সম্রাট হোসেনকে জেরা করেছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। নেতাকর্মীদের গায়ে আলাদা কোনো পোশাক ছিল কি না- জানতে চাইলে সাক্ষী বলেন, আলাদা পোশাক ছিল না। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ জেরা অনুষ্ঠিত হয়। এ মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ মোট আসামি ১২ জন। তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে এদিন অবশিষ্ট জবানবন্দি দেন সম্রাট। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন আহত জুলাই যোদ্ধা।

জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন সম্রাট। ওই দিন তৎকালীন এমপি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে তার চোখ, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে তিনি ডান চোখে দেখতে পান না। বাঁ চোখে দেখতেও সমস্যা হয়। এছাড়া তার শরীরে এখনও ৪০টিরও বেশি পিলেট রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জবানবন্দি শেষে সম্রাটকে জেরা করেন পলাতক অয়নসহ চার আসামির পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন। প্রথমেই সাক্ষী চোখে দেখেন কিনা যাচাই করতে যান তিনি।

সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী আমির বলেন, আপনি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা নন। ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত গেজেটটি আপনার তৈরি করা। এই গেজেট জমা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে মামলায় আপনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

জবাবে সম্রাট বলেন, আমি গেজেটভুক্ত একজন জুলাই যোদ্ধা। এটি আমার বানানো নয়। ট্রাইব্যুনালে আমি সত্য সাক্ষ্য দিয়েছি।

এ পর্যায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে জানতে চান স্টেট ডিফেন্স এই আইনজীবী। তিনি প্রশ্ন করেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের গায়ে আলাদা কোনো পোশাক ছিল কিনা। 

সাক্ষী বলেন, না। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল। তখন আমির হোসেন বলেন, হেলমেট থাকায় আপনি কাউকেই চিনতে পারেননি। প্রত্যুত্তরে সম্রাট বলেন, সাক্ষ্যে আমি যাদের নাম বলেছি তাদের আগে থেকেই চিনতে পারতাম। কারণ আমি অয়ন ওসমানদের বাসার পাশে ভাড়ায় থাকতাম।

আমির হোসেনের পর তাকে জেরা করেন পলাতক বাকি আসামিদের পক্ষে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল।

এর আগে, ১২ আগস্ট সাক্ষ্য দেন সম্রাট। প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন- শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪