| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২০, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৬:৫৫:অপরাহ্ন  |  ১৩৪১ বার পঠিত
জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জামালপুরের মাদারগঞ্জে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তহিজলের ছেলে মো. সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩০), মৃত ভোলা শেখের ছেলে সাদ্দাম (৩০), কামালের ছেলে উজ্জল (৩০), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩০) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০), আছর শেখের ছেলে মো. জিয়ার (৪৫), ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪১), রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার (২৯), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩১), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩১) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।

তবে মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল।

পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে মহর ও স্বপনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মহর আলী (১৯) ছিলেন গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় এর আগে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে আরও ১৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর নিহত স্বপন মিয়ার বাবা ও মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন জানান।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম দিদার। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আকাশ, অ্যাডভোকেট ওয়াব আলী ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪