নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ব্যবসায়ী ও ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত বুলবুল পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এ কারণে শেখ সিফাতসহ কয়েকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেখ সিফাতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বন্দর থানার শাহী মসজিদ এলাকার বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে প্রবেশ করেন। তারা অটোরিকশা, চার্জার, ব্যাটারিসহ প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানায় পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দর থানার সালেহনগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে বুলবুলের পথরোধ করা হয়।
পুলিশ জানায়, শেখ সিফাতের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, চাকু ও লোহার পাইপ নিয়ে বুলবুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে একটি ছ্যান দা, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি এবং চারটি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২১ আগস্ট বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব