| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চউকের অভিযান অব্যাহত

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৪, ২০২৬ ইং | ২৩:০২:০০:অপরাহ্ন  |  ২৩০৬ বার পঠিত
হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চউকের অভিযান অব্যাহত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: নগরীর যানজট নিরসন, ভবনের অনুমোদিত নকশা বাস্তবায়ন এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়।

পরিদর্শনকালে ল্যানসেট হাসপাতাল, ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল, শেভরন হাসপাতাল, বেলভিউ হাসপাতাল, উৎসব সুপারমার্কেট ও আল হিদায়াহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পার্কিং ব্যবস্থাপনা, অনুমোদিত নকশা, ভবনের ব্যবহার ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হয়।

ল্যানসেট হাসপাতাল:

পরিদর্শনে দেখা যায়, আবাসিক ভবনে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানেও ফার্মেসি ও বিভিন্ন দোকান স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থারও কোনো লেশ পাওয়া যায় নি। সার্বিক অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চউক চেয়ারম্যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ভবনে হাসপাতালের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অথবা হাসপাতাল অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল:

পরিদর্শনে পার্কিংয়ের সিলিন্ডারের মযুদ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেভরন হাসপাতাল:

হাসপাতালের বেসমেন্টে পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও নিচতলায় নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত পার্কিং স্থানে পর্যাপ্ত পার্কিং পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের যানবাহন যাতে সহজে পার্কিংয়ে প্রবেশ করতে পারে এবং পার্কিং ব্যবহারে উৎসাহিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বেলভিউ হাসপাতাল:

হাসপাতালটির কার্যক্রম এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। পরিদর্শনে পার্কিং ব্যবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক পাওয়া যায়। তবে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্ধারিত স্থানে পার্কিং না থাকায় নির্ধারিত স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উৎসব সুপারমার্কেট:

সুপারমার্কেটের নিজস্ব পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকদের যানবাহন সড়কে অবস্থান করে যানজট সৃষ্টি করছে বলে পরিদর্শনে দেখা যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। আগামীকালের মধ্যে অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল হিদায়াহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল:

আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানে পাঠদান কার্যক্রম ও ফুডকার্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চউক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের চউক চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান নয়। সকল প্রতিষ্ঠান যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই শহরকে যানজটমুক্ত করতে হলে ভবনগুলোর নির্ধারিত পার্কিং উন্মুক্ত ও কার্যকর রাখতে হবে। একই সঙ্গে নগরীকে বাসযোগ্য করতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।”

তিনি বলেন, “আবাসিক ভবনে যারা হাসপাতাল পরিচালনা করছেন, তাদের এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ভবনে হাসপাতাল স্থানান্তর করতে হবে। ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কেউ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাদের অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। শেভরন ও বেলভিউ হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক। তবে শেভরনের নিচতলায় নকশা অনুযায়ী কিছু পার্কিং কম পাওয়া গেছে। তা তিন মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ল্যানসেট হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “এই ভবনে হাসপাতাল পরিচালনার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদন দিয়েছে, নাকি ঢাকায় বসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, চলমান অভিযানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কেউ প্রতারণার শিকার হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪