| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ১৩:৪৭:০৬:অপরাহ্ন  |  ২১০ বার পঠিত
ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এসব রিকশা কোথায় চলতে পারবে, কতটুকু এলাকায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা কেমন হতে হবে এবং চালকদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন নীতিমালায় এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এসব যান মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে কিছুটা সুবিধা তৈরি করলেও একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের সমস্যাও সৃষ্টি করছে।

বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট বাড়ার পেছনে এসব রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকায় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

শুধু চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতিই নয়, এসব যানবাহন কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ ও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কি না সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকার খুব দ্রুত এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। কোন এলাকায় এসব রিকশা চলাচল করতে পারবে এবং কোথায় চলতে পারবে না, চলাচলের পরিধি কতটুকু হবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা কী হতে হবে নীতিমালায় এসব বিষয় স্পষ্ট করা হবে।

একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচিটির দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।

তার মতে, দরিদ্র মানুষের হাতে যখন অর্থ পৌঁছাবে, তারা সেই অর্থ দ্রুত দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাজারে ব্যয় করবেন। এর ফলে শুধু কার্ডের সুবিধাভোগী পরিবারগুলোই উপকৃত হবে না, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছানো অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়ে চাহিদা তৈরি করবে। আর বাড়তি চাহিদার ভিত্তিতে নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা শুধু সামাজিক সহায়তা হিসেবে নয়, অর্থনীতিতেও বহুগুণ প্রভাব তৈরি করতে পারে। নিম্নআয়ের মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লে বাজারে চাহিদা বাড়বে, উৎপাদন ও ব্যবসায় গতি আসবে এবং এর ধারাবাহিকতায় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা এবং একই সঙ্গে বড় পরিসরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রেই নগর ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪