রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ধর্মীয় এ দিবসকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, নাশকতা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক ও পরিচালকের পক্ষে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সারাদেশে ইবাদত-বন্দেগী, সালাত, জিকিরসহ বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করা হবে। এ আয়োজন যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে র্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
র্যাব জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও অনুষ্ঠানস্থলে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি র্যাব ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিভিন্ন স্থানে স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক নেতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বার্থান্বেষী মহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিংবা কোনো গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো অপতৎপরতা চালানোর আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিতর্কিত, উসকানিমূলক কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের ওপরও সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি কিংবা বিশৃঙ্খলা ছড়াতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বস্তু বা পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। র্যাব জানিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য ও ছবি শনাক্ত করতে চলমান সাইবার পেট্রোলিং বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। অনলাইনে কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে র্যাব।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে র্যাব ফোর্সেস। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম