| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ১৭:০৭:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৭৯ বার পঠিত
দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ চলমান সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের অফিসকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এসব বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউএনডিপি সহযোগিতা করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তারা আনন্দিত।

তিনি জানান, মন্ত্রী চাইলে সংবিধান সংশোধনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দিতে ইউএনডিপি আগ্রহী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সংস্থাটির সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ করে পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায়। তবে বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় ক্যাম্প এলাকায় নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার।

বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধে ইউএনডিপি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। এ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার আশা, আইনটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

বৈঠকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। তার মতে, বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয়ভাবে সহনশীল দেশ। বাংলাদেশের এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, পুলিশি সক্ষমতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪