| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৮, ২০২৬ ইং | ২৩:০৫:০৫:অপরাহ্ন  |  ৬১১ বার পঠিত
মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ.ই. বাতসেতসেগ বাতমুনখের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার আন্তঃসম্পর্ক আরও জোরদারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

এ বৈঠকে মঙ্গোলিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পরিবেশগত অভিঘাত প্রশমনে সহযোগিতা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়।

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখানা ইউএনসিসিডি কপ-১৭এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কপ-১৭ -এর সভাপতি বাতসেতসেগ বাতমুনখ, জাতিসংঘের উপমহাসচিব আমিনা জে. মোহাম্মদ এবং ইউএনসিসিডি’র নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানগণ অংশ নেন।

এদিকে, কপ-১৭-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভূমিকে শুধু পরিবেশগত ব্যয় হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের ভূমি অবক্ষয় রোধে মাটি উর্বরতা সংরক্ষণ, বনভূমি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস, উপকূলীয় লবণাক্ততা ও নদীভাঙন মোকাবিলাকে জাতীয় পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলা এবং কৃষকদের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন তিনি।

ভূমি পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ঋণ-প্রকৃতি বিনিময়, ঋণ-জলবায়ু বিনিময় এবং গ্রিন বন্ডের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। এসব অর্থায়ন উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি, বনায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, উজানের পানিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ অঞ্চলের দেশগুলোতে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অভিন্ন নদী অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও তথ্য বিনিময়ে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরেছেন পরিবেশমন্ত্রী। এর আগে তিনি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত কপ-১৭-কে ঘিরে বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রেও এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪