জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মারকাজুল উলূম বালিহূদা মাদ্রাসার শিক্ষক জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ১২ বছর বসয়ী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এঘটনার পর মাদ্রাসার পরিচালক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা জুবায়ের খান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পরিদর্শক (তদন্ত) সহ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
রোববার (২৯ জুন) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বড়ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ২৫ জুন রাতে হাসাদাহ ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রামে অবস্থিত মারকাজুল উলূম বালিহূদা মাদ্রাসায় এঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী আবাসিক শিক্ষক ও মাগুরা জেলার শালিখা থানার হাসখালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার পর এক পুলিশ কর্মকতার কাছে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পাঠানোর আগের দিন ম্যাসেজে মাওলানা জুবায়ের খান লেখেন, টাকাটা উদ্ধারের জন্য দায়ীত্ব এসআইকে একটু বলে দিয়েন, মাদরাসার টাকাটা যেন উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাকে কল করেন। পরের দিন মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি তাঁকে পাঠান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ফের তাঁকে কল করেন।
এদিকে মাওলানা জুবায়ের খানের প্রভাবের কারণে আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা জুবায়ের খান বলেন, আমি একটা রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এখানকার ওসি, ডিসি, এসপি তাদের সাথে সমন্বয় করার জন্য এবং আমার পরিচিতি ও আমার কার্যক্রমের বিষয় তাদের সাথে শেয়ার করতে পারি না? আমি শুধু তাদেরকে না সাংবাদিকদের কাছেও এই ছবি পাঠাইছি। এখানে এই ছবি দেখিয়ে আমি কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক জুবায়ের খান বাদী হয়ে মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং ২ লাখ টাকা লুটপাটের বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় বলাৎকারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। আমরা দুটি বিষয়ই তদন্ত করছি।
তিনি আরও বলেন, জুবায়ের খান কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হোটসঅ্যাপে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রতবোধ করছি।
বলাৎকারের মামলার অভিযোগে বলা হয়, জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রামে অবস্থিত মারকাজুল উলূম বালিহূদা মাদ্রাসায় পড়ত ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে জিল্লুর রহমান নামের এক শিক্ষক। সকালে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বিষয়টি ওই ছাত্রের পরিবারকে জানালে ছাত্রের বড়ভাই মাদ্রাসার পরিচালক জুবায়ের খানকে জানান, তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও চুরির অভিযোগ করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ