ভাঙ্গা প্রতিনিধি: রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এক হলেও গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের উত্তাপ বেড়েই চলেছে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই। ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে অশান্তির রূপ নিয়েছে- এমন অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ঘোষিত কমিটিকে ঘিরে একপক্ষ আনন্দ মিছিল করলেও, অপর পক্ষটি কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একমাত্র দলীয় শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে আওয়ামী পন্থীদের নিয়েই এই কমিটি গঠিত হয়েছে, যা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমাননা।
গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত ওই কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। পৌর বিএনপিসহ ১২টি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেন, ঘোষিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৬ জন সরাসরি আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সনের আস্থাভাজন ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে ‘ত্যাগী’ ও ‘ভোগী’ দুই ভাগে বিভক্ত রাজনীতি চলে আসছে। সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও তার অনুসারীরা কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে মনে করছেন অপরপক্ষের নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় রাজপথে লড়াই করা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
কমিটিকে ঘিরে বিতর্ক চরমে ওঠায় পরদিন রাতেই ভাঙ্গা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি বাতিলের দাবি জানান। আওয়ামী লীগের দোসরদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করে বক্তারা বলেন, জেলা বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনৈতিক উপায়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের আহবায়ক কমিটিতে স্থান দিয়ে দলীয় নীতি নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি কমিটি বাতিল ঘোষণার দাবীতে সংবাদ সম্মেলনে মুল প্রতিপাদ্য পাঠ করেন পৌর বিএনপি নেতা শিকদার ফারুকুজামান ছোট্টু।
পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি আহ্বায়ক কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, ভাঙ্গায় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্যনীয় টাকার মালিক বনের নেতাদের কাছেই দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীরা অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কাতারে। পৌর বিএনপির প্রস্তুতি আহ্বায়ক কমিটির বেলায় ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি। সঠিক উপলব্ধি থেকে যদি সুরাহা না করা হয় তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মতামত
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ নেতা মঞ্জুর হাসান খান বলেন, ১৭ বছর পরে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত পতন হলেও ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির মধ্যে কিছু ফ্যাসিবাদ রয়েছে। তারা টাকার বিনিময়ে সকল কিছু কেড়ে নিয়ে থাকে। পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে আরও বলেন, ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে এতটা বিতর্কের সৃষ্টি হতো না বলে নিজের অভিমত প্রকাশ করেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী বিল্লাল বলেন, তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা উপেক্ষা করে ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যদি তাই না হয়ে থাকে তাহলে বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী পন্থী ফ্যাসিবাদ আগ্রাসনীদের রাখা হলো কি করে! অবিলম্বে সহিদুল ইসলাম বাবুল খান ও আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের প্ররোচিত কমিটির বাতিল ঘোষণার দাবী জানান।
ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান পান্না রিপোর্টাস টুয়েন্টি ফোর-কে বলেন, রাজনীতিতে ভুল নতুন কিছু নয়। এটা হতে পারে। কিন্তু সমাধানের পথও খোলা থাকে। বিএনপির রাজনীতির আস্থাশীল যেসকল নেতারা পৌর কমিটি ঘোষণায় সংক্ষুব্ধ হয়েছে বলে দাবী করেন তারা জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে টেবিলে বসেই ভুলগুলো সমাধান করতেই পারেন। কিন্তু সেখানে রাজপথে জ্বালাও পোড়াও অবরোধ ও অনৈতিক উপায়ে কমিটি গঠন ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগের বিষয়গুলো অনাকাক্সিক্ষত। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা ছাড়া কিছু নয় বলে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের মতামত জানতে তার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ