| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, পরশুরামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৯, ২০২৫ ইং | ০৪:২৫:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ১৭২৫৯৭৫ বার পঠিত
তিন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, পরশুরামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবির ক্যাপশন: তিন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, পরশুরামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:

ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজানের পানির প্রবল চাপের ফলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ১৪টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পড়েছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, এবং পরশুরাম উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙেছে পরশুরামের জঙ্গলঘোনা, অলকা ও শালধর এবং ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুর এলাকায়। সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙেছে পরশুরামের গদানগর ও ফুলগাজীর দেড়পড়া এলাকায়। এছাড়া কহুয়া নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরশুরামের সাতকুচিয়া, বেড়াবাড়িয়া এবং ফুলগাজীর দৌলতপুর এলাকায়। এসব ভাঙনে শতাধিক গ্রামবাসী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

পরশুরামের মধ্যম ধনীকুন্ডা এলাকার বাসিন্দা নাহিদা সুলতানা বলেন, “সন্ধ্যার পর হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। দরকারি কিছু জিনিসপত্র নিয়ে ছাদে উঠে আশ্রয় নিয়েছি। গত বছর বন্যায় সব কিছু হারিয়েছিলাম, এবারও একই পরিস্থিতি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ ভাঙনের পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। মির্জানগর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরই দায়সারা কাজের ফলে বড় জনগোষ্ঠীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, “ভাঙনের ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

ফুলগাজী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম জানান, “উপজেলার চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যার কারণে উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।”

ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বুধবার ও বৃহস্পতিবারও।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানিয়েছেন, “নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও বাঁধ ভাঙার শঙ্কা রয়েছে।”

বন্যা মোকাবিলায় ফেনী জেলা প্রশাসন ফুলগাজী ও পরশুরামে ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের সহায়তায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, “উপজয় দু’টিতে ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া রান্না করা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।”

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪