রিপোর্টর্স২৪ ডেস্ক :সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বর এলাকায় দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, গত ৫৪ বছরে ভারতীয় আধিপত্য আমাদের দেশের জনগণের মানবিক মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব বারবার ক্ষুণ্ন করেছে। পানি চুক্তি কিংবা পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ার মধ্যদিয়েও বাংলাদেশকে বারবার অবদমন করা হয়েছে। সীমান্তে বারবার হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আমাদের কৃষকদের হত্যা করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে এক কৃষককে হত্যা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সাত দিন পর মরদেহ হস্তান্তর করেছে। বিএসএফ এখন আর সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, বরং একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা যেন বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করাকেই একমাত্র দায়িত্ব মনে করে।
অথচ এতগুলো বছরেও কোনো সরকার কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। আমরা আর কোনো সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকবো না। জনগণের শক্তিই হবে রক্ষাকবচ।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল। ওই সময় বিবিসির একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় যে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা নিজেই সেই অভ্যুত্থানে গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এসব হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে। বর্তমানে সেই শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন, যেখানে একটি গণহত্যাকারী, সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে গুম, খুন ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যার পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ছিল। কিন্তু এখন আর কেউ নিরব থাকবে না। বাংলাদেশের তরুণ, ছাত্র ও যুবসমাজ এই দেশের মাটি, মানচিত্র ও সীমান্ত রক্ষার শপথ নিয়েছে, আর সেই দায়িত্ব নিয়েই এনসিপি রাজপথে নেমেছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রেক্ষাপটে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শুধু এই জেলার সীমান্তেই প্রায় ২০০ মানুষ বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। দেশের অন্যান্য সীমান্তে হাজারো প্রাণ গেছে। গরু পাচারের অভিযোগে গরিব কৃষকদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, তবে তা হতে হবে মর্যাদা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। শুধু বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল নয়, ভারতের অখণ্ডতা রক্ষাতেও বাংলাদেশের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, এই বাস্তবতা ভারত ভুলে গেলে চলবে না।
নাহিদ আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। কিন্তু দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রহসনে মানুষ বারবার প্রতারিত হচ্ছে। আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে বলছি-ভয় পাবেন না। এই দেশ আবারও আপনাদের সন্তানদের ত্যাগে স্বাধীনতা পেয়েছে। নারীরা, আলেম সমাজ, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ সবাই একসঙ্গে রাজপথে ছিল। এই ভয়-ভীতি আর চলবে না। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সরকার গণহত্যা চালিয়েছে। হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, আহত করেছে আরও অনেককে। এই দানবীয় শক্তিকে বাংলাদেশে টিকতে দেওয়া যাবে না। তারা যদি ফিরে আসে, তা হলে আমাদের জীবন দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আমরা একটি সংস্কারভিত্তিক নতুন সংবিধান চাই। সেই লক্ষ্যেই এনসিপি রাজপথে রয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব যারা দিয়েছে, তারা এখনো জনগণের পক্ষে কথা বলছে। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকলে, ইনশাআল্লাহ হতাশ হবেন না, যোগ করেন নাহিদ ইসলামএর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গাড়িতে বসে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিন দিনভর বৃষ্টির মধ্যেও চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি স্পটে পদযাত্রায় এনসিপির নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানাতে সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পদযাত্রাটি দর্শনায় অনুষ্ঠিত হয়। এই পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টর্স২৪/ঝুম