রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:
কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। সারাদেশজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে জনজীবন কার্যত থমকে যায়।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, আগারগাঁও, সায়েন্সল্যাব, রামপুরা, মহাখালী, মৎস ভবন, চানখারপুল, জিরো পয়েন্টসহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের জমায়েত রোধে পুলিশের ব্যারিকেড থাকলেও তা ভেঙে আন্দোলনকারীরা অগ্রসর হন।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে দিনভর চলে প্রতিবাদী গান, কবিতা ও স্লোগান। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে কোটা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং তা যেন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ কোটা রাখার পক্ষে অবস্থান জানান।
এদিন দুপুরে কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়। আদালতের এই আদেশে আন্দোলনকারীদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই আন্দোলনের লক্ষ্য আদালতের নয়, বরং সরকারের কাছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আদায়।
সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রধান বিচারপতিও এক আদেশে আন্দোলনকারীদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরার অনুরোধ জানান। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী দাবি করেন, রাস্তায় বসে দাবি আদায় সম্ভব নয়, এবং এমন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি। ঢাকার বাইরেও উত্তাল হয়ে ওঠে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রামে দিনভর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ। রাজশাহী, রংপুর, ও খুলনাতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার ও জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেন। ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। ফলে রাজধানীর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট ও যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, এটি একটি প্রজন্মের স্বার্থ সংরক্ষণের আন্দোলন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মতের অমিল থাকলেও লক্ষ্য ও চেতনায় একাট্টা দেশের শিক্ষার্থীরা। সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ আজ একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।