| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৩ আগষ্টের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ’জুলাই ঘোষণা’ নিশ্চিত করতে চায় এনসিপি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৪, ২০২৫ ইং | ১০:১১:১১:পূর্বাহ্ন  |  ১৭১২৮৯৩ বার পঠিত
৩ আগষ্টের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ’জুলাই ঘোষণা’ নিশ্চিত করতে চায় এনসিপি

রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে গত বছরের ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশে সরকার পতন ও ফ্যাসিবাদ বিলোপের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে দিনটির বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে আগামী মাসে। দিনটিকে ঐতিহাসিক করে রাখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বড় জমায়েত করার চিন্তা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এনিসিপি নেতাদের আরো একটি লক্ষ্য হচ্ছে এই আগষ্টেই ’জুলাই ঘোষণা’ চুড়ান্ত করা। এ লক্ষ্যে এনসিপি এখন জেলায় জেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ করছে। এনসিপিতে থাকা গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতারা ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের পদযাত্রা ও পথসভা করছেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি বৃহৎ সমাবেশ করা। 

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনসিপি যে সমাবেশ করার কথা বলছে, সেখানে ঠিক কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল রয়েছে। কারণ, গত ২৯ জুন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁরা জুলাই ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার পাঠ করবেন।

নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, দুই দফায় (চলতি বছরের জানুয়ারি ও জুন) প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে পারেনি। কেন দিতে পারেনি, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এখন তাঁরা আর সরকারের কাছ থেকে এটা আশাও করছেন না। গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের নিয়েই এনসিপি ঘোষণাপত্র দেবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটা হবে।

এ ছাড়া চলমান জুলাই পদযাত্রায় মাঝেই গত বৃহস্পতিবার মাগুরায় এক সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৩ আগস্টের মধ্যে তাঁরা জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ দেখতে চান। ৩ আগস্ট তাঁরা শহীদ মিনারে থাকবেন। এর মধ্যে সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে ব্যর্থ হলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আবার আন্দোলনে নামবেন।

এনসিপির এমন হুঁশিয়ারির মধ্যে সম্প্রতি পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। দলগুলোর সঙ্গে মিলে ৫ আগস্টের আগেই সরকার এটি চূড়ান্ত করতে চায়।

সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে জুলাই ঘোষণাপত্রের স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা চায় এনসিপি। তবে জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে একমত নয় বিএনপি। ঘোষণাপত্রের পুরোটা না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাটুকু ধারণ করে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে শুধু ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪’ রাখার পক্ষে দলটি।

এদিকে সরকারের দিক থেকে ঘোষণাপত্র নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছে না এনসিপি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান—এই তিন দাবিতে আমাদের ধারাবাহিক জুলাই পদযাত্রা চলছে। পদযাত্রা শেষে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের বড় সমাবেশ হবে। সেখানে ঢাকার বাইরে থেকেও মানুষ আসতে পারে। সরকার যদি ৩ আগস্টের আগে জুলাই ঘোষণাপত্র দেয়, তাহলে আমাদের সমাবেশটি হবে অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির সমাবেশ।’

এনসিপির নেতারা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেন বৈধ ছিল, এটি যে জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল, সে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে জুলাই ঘোষণাপত্রে। ভবিষ্যতে এটাকে সংবিধানে যুক্ত করতে হবে, যা গণ-অভ্যুত্থানকে বৈধতা দেবে। গণ-অভ্যুত্থানের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য এনসিপি জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ‘সিরিয়াস’।

আমরা চাই ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকারই জুলাই মাসের মধ্যে ঘোষণাপত্র জারি করুক; কিন্তু যদি সেটি না হয়, তাহলে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ৩ আগস্ট আমরা ঘোষণাপত্র দেব।

তথ্যসূত্র : প্রথম আলো

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪