সিনিয়র রিপোর্টার :
বঙ্গোপসাগরে ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে বিকল হয়ে যায় ইঞ্জিন। এরপর চার দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন ১৮ জেলে। অবশেষে মঙ্গলবার তাদের জীবিত উদ্ধার করেছে নৌ বাহিনী।
বুধবার আইএসপিআর জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর অদূরে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে০৪ দিন ভেসে থাকা ‘হাবিবা’ নামক একটি মাছ ধরার ট্রলার ও বিপদগ্রস্থ ১৮ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (২২ জুলাই ) নৌবাহিনী যুদ্ধ জাহাজ ‘শহীদ ফরিদ’ নিয়মিত টহলে থাকা অবস্থায় মহেশখালী থেকে ২৫ মাইল পশ্চিমে একটি মাছ ধরার ট্রলার ভাসমান অবস্থায় খুজে পায়। এ সময় ট্রলারে অবস্থানরত জেলেরা নৌবাহিনীর জাহাজটিকে দেখতে পেয়ে বিপদ সংকেত প্রদর্শন করতে থাকে যা নৌবাহিনীর কাছে সন্দেহজনক পরিলক্ষিত হওয়ায় শীঘ্রই জাহাজটি বিপদগ্রস্ত ট্রলারের নিকট ছুটে যায়।
আইএসপিআর আরও জানায়, ট্রলারটির কাছে পৌঁছানোর পর নৌ সদস্যরা মাঝিদের কাছ থেকে অবগত হন যে, তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় গত ৪ দিন যাবৎ তারা গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। তাদের কাছে অবশিষ্ট খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের করুণ অবস্থা পরিলক্ষিত করে নৌ সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রদান করেন। পরবর্তীতে নৌবাহিনীর সদস্যগণ জেলেসহ ট্রলারটিকে উক্ত স্থান থেকে নিরাপদে কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছে দেয়।
আইএসপিআর জানায়, এ সময় তাদের প্রয়োজনীয় পানি ও খাবার ছাড়াও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ট্রলারে থাকা ১৮ জন জেলেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। অসহায় জেলেরা তাদের জীবন রক্ষা করার জন্য এবং তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নৌবাহিনীর কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নৌ সদস্যরা জানতে পারেন যে, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটি ভোলা জেলার মনপুরা এলাকা হতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে গমন করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি সংরক্ষণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়োজিতকরণের মাধ্যমে সমগ্র বঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় দিনরাত টহল পরিচালনা করছে যা ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন