| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শ্যামনগরে ‘প্যান্ডেমিক ফিসারিজ’ থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩০, ২০২৫ ইং | ১১:৩২:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৬০০২৩১ বার পঠিত
শ্যামনগরে ‘প্যান্ডেমিক ফিসারিজ’ থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: শ্যামনগরে ‘প্যান্ডেমিক ফিসারিজ’ থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজার সংলগ্ন ‘প্যান্ডেমিক ফিসারিজ লিমিটেড’ নামক একটি মৎস্যপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুট ও প্রজেক্ট দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে প্রজেক্টটি মুক্ত করতে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল-কাইয়ুম।

তিনি বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্য থেকে আমি এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বেতনভুক্ত ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ এম সাইদুর রহমান ৩১২ জন ভূমি মালিকের কাছ থেকে এক হাজার বিঘারও বেশি জমি ১৫ বছরের (৩১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুলাই ২০৩৫) জন্য লিজ নিয়ে “প্যান্ডেমিক ফিসারিজ লিমিটেড” চালু করেন। নিজস্ব বিনিয়োগ ছাড়াও এনআরবিসি ব্যাংক থেকে ১৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ৩ কোটি টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মুন্সিগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আবুল কাশেম মোড়ল এবং জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মরহুম আব্দুস সাত্তার মোড়লের পুত্র সালাউদ্দিন শাওনসহ তাদের সহযোগীরা এই প্রকল্প জোরপূর্বক দখলে নেন।

এই বিষয়ে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং সাতক্ষীরার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা চলমান থাকলেও অভিযুক্তরা আদালতের আদেশ ও আইনকে অমান্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে প্রজেক্ট দখল করে নেয়।

লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চারদিনে আবুল কাশেম ও শাওনের নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে লোকজন নিয়ে প্রজেক্টে হামলা চালানো হয়। এসময় বেড় জাল ও খেপলা জাল ফেলে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির উৎপাদিত মাছ এবং আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। ১৮০টি পুকুরের মধ্যে শতাধিক পুকুরে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় প্রজেক্টের সাইট ম্যানেজার আলমগীর কবির বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলার অনেক আসামি জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তারা এখনো প্রজেক্ট দখলে রেখে মাছ লুটপাট অব্যাহত রেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ চারবার এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিনবার উপস্থিত হলেও তারা চলে যাওয়ার পর ফের হামলা চালানো হয়। এটিকে শুধু ‘প্যান্ডেমিক ফিসারিজ’-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয় বরং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রজেক্টটি অবৈধ দখলমুক্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪