রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম শুরু করল যেভাবে, সেটাকে বলা যায় রীতিমতো বার্তা ছুঁড়ে দেওয়া। গেল মৌসুমের মতো বাজে সময় শেষ দেড় দশকে আর কাটেনি দলটার। মৌসুমের শেষটাও হয়েছে বিশ্বকাপে সৌদির দল আল হিলালের কাছে হেরে। সেই দলটাই এবারের প্রিমিয়ার লিগ শুরু করল চিরচেনা রূপে, রাজসিক মেজাজে। প্রতিপক্ষ উলভারহ্যাম্পটনকে তাদের মাঠেই হারিয়ে দিল ৪–০ গোলে। জোড়া গোল করে নিজেও দুঃসময়কে পেছনে ফেলার ইঙ্গিতই দিয়েছেন আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভিন্ন গল্পই বলছিল। উলভস কিছুটা চমক দেখিয়েছিল। তাদের আক্রমণে সিটি রক্ষণে অল্প সময়ের জন্য চাপ পড়েছিল। এমনকি ২৬ মিনিটে মুনেতসি বল জালে পাঠিয়েছিলেন। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তাতে মনে হচ্ছিল, গেল মৌসুমের ভূত কি তবে নতুন মৌসুমেও তাড়া করবে সিটিকে?
তবে স্বাগতিকদের সে চেষ্টা বাতিল হতেই যেন ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফেরে সিটি। তারই ধারাবাহিকতায় ৩৪ মিনিটে আসে প্রথম গোল। ডাচ মিডফিল্ডার রেইনডার্স চমৎকার দৌড়ে বল নিয়ে ঢুকে দেন লুইসকে। লুইসের থেকে গোলের সামনে দাঁড়ানো হালান্ড সহজ ট্যাপ–ইনে গোল করেন। এটা ছিল নরওয়েজিয়ান তারকার উলভসের বিপক্ষে দশম গোল।
তার তিন মিনিট পরেই আবারও জ্বলে ওঠেন রেইনডার্স। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে এক নিমিষে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি। বিরতিতে ২–০ গোলে এগিয়ে ছিল সিটি।
বিরতির পর উলভস কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়। তবে গোলরক্ষক ট্র্যাফোর্ডের দৃঢ়তায় প্রতিটি চেষ্টা ভেস্তে যায়। তবে সিটি আবার নিজেদের গুছিয়ে গোলে মনোযোগ দেয় শিগগিরই। ৬১ মিনিটে দীর্ঘ পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে রেইনডার্স অস্কার ববের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বল পৌঁছে দেন হালান্ডের পায়ে। তিনি নিচু শটে জালে পাঠান, উলভস গোলরক্ষকের হাত ছুঁলেও শটটা ঠেকানো হয়নি আর।
শেষ গোলটি আসে ৮১ মিনিটে। গোলের খাতায় নাম লিখিয়ে নেন তরুণ ফরাসি রায়ান চেরকি। বাঁ দিক দিয়ে ড্রিবল করে বক্সের সামনে এসে নিচু শটে বল পাঠান পোস্টের কোণে। সিটির বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তাতেই।
গেল মৌসুমটা খুবই বাজে কেটেছে সিটির। কোচ পেপ গার্দিওলারও এমন বাজে মৌসুম আর কাটেনি। সে দুঃসময়কে পেছনে ফেলতে নতুন মৌসুমের শুরুতেই জয় প্রয়োজন ছিল সিটির। উলভসের মাঠে সে মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়টা পেয়েই গেল সিটি।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ