সনৎ চক্র বর্ত্তী, ফরিদপুর :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শাপলা ফুল সবজি হিসাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যার কান্ড বা ডগা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এটি পুষ্টিকর সবজি এবং বেশ সুস্বাদু। শাপলা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। তবে সাদা, নীল ও লাল শাপলাই চোখে পড়ে বেশি। শহরে এটা তেমন দেখা না গেলেও গ্রামাঞ্চলের বিল-ঝিলে বেশি চোখে পড়ে। গ্রামের বাজারগুলোতে প্রতি আঁটি (৪/৫টা দিয়ে বাঁধা) শাপলা ৫/১০ টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে।
গ্রামেই নয়, শহরেও তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় শাপলা পাওয়া যায়।
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে ১.৩ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১.১ গ্রাম আঁশ, ৩.১ গ্রাম ক্যালোরি-প্রোটিন, ৩১.৭ গ্রাম শর্করা, ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।
শাপলা শুধু সৌন্দর্য ছড়ায় না; খাদ্য চাহিদাও পূরণ করে। বর্ষায় ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন খাল বিল থেকে শাপলা ফুল সংগ্রহ করে কিছু লোক উপজেলা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সবজি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকলেও দূষণ ও জলাশয় কমতে থাকায় এখন আর আগের মত শাপলা পাওয়া যায় না।
জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সজল বিশ্বাস। তিনি জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় দুই থেকে তিন মাস খাল-বিলের মধ্যে পানি থাকে। তখন আমাদের কৃষি কাজ কমে যায়। আর্থিক সংকটের কারনে তাদের শাপলা বিক্রি করে সংসার চলতে হয়। শাপলা বিক্রিতে বড় ধরনের কোন মূলধনের প্রয়োজন না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের অনেকেই বর্ষার মৌসুমে শাপলা বিক্রি করছেন। তিনি আরও বলেন, এক সময় সবজির দর চড়া থাকার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতো শাপলা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের আজ ধনী-গরীব সবার কাছে শাপলা তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে অনেক শাপলা ফুটে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় এই শাপলা।
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক নিয়মেই পানিতে বেড়ে ওঠে শাপলা ফুল । কোনধরনের যত্ন ও পরিচর্যা করা লাগে না। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলে পানি থেকে প্রচুর শাপলা হয়। এসব শাপলা তুলে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন। যদি ঠিকমতো সংগ্রহ করে বাজারজাত করা যায়, তবে এটিও আয়ের ভালো উৎস হতে পারে।
এস