| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জামায়াত নেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে আবারো উত্তাল চবি

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫ ইং | ১৪:৫৫:৫৩:অপরাহ্ন  |  ১৫৫১১৩৩ বার পঠিত
জামায়াত নেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে আবারো উত্তাল চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: গত ৩০ আগস্ট রাত  ও ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় দুর্বৃত্তদের দ্বারা ক্রমাগত হামলার শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় পনেরশো শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী এবং আরও ৩ শিক্ষার্থী রয়েছে মরণাপন্ন পরিস্থিতিতে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি এবং এর শিক্ষার্থীদের কে নিয়ে জামায়াত নেতাদের বিস্ফোরক মন্তব্যে আবারও উত্তাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলছে সমালোচনার ঝড়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবড়া গ্রামে এলাকাবাসীর সামনে চট্টগ্রাম-৫ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বদের বিশ্ববিদ্যালয়টি ও এর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া বিরূপ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝে তা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান জায়গায় বিক্ষোভ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় এলাকাবাসীর সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আমীর অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমীর এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফতেহপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব সহ আরও অনেকে।

এসময় ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামকে বলতে শুনা যায়, “বিশ্ববিদ্যালয় আমার পৈতৃক সম্পত্তির উপর।” “আমরা হচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার।” “জমিদারের উপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে এটা কি আমরা মেনে নিতে পারি! কখনো না। আমরা অতীতেও মেনে নেইনি সামনেও মেনে নিব না। এই বিশ্ববিদ্যালয়টা হচ্ছে আমাদের বুকের উপর। আমরা হচ্ছি এই জায়গার মালিক। এজন্য আমরা অন্যায় কোন কিছু মেনে নিব না।” “বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের কে যথাযথ সম্মান না করে, তাইলে আমরা জনগণ নিয়ে যেটা করা দরকার সেটাই ইনশাল্লাহ আমরা সামনে করব।” তবে ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম তার দাওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

এছাড়াও অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান স্থানীয়দের সামনে দেওয়া তার বক্তব্যে, সংঘর্ষের সূত্রপাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক নারী শিক্ষার্থী রাতে তার ভাড়া ফ্ল্যাট বাসায় প্রবেশ করতে গেলে বাসাটির দারোয়ান কর্তৃক মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং একই সাথে ভুক্তভোগী ঐ নারী শিক্ষার্থী রাতে এক ছেলেকে সাথে করে তার ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে গেলে তাকে দারোয়ান বাঁধা দেয় এবং এতে করে দারোয়ান দ্বারা ঐ নারী শিক্ষার্থী কে মারা হয় যা কোন অন্যায় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী ঐ নারী শিক্ষার্থী ঘটনার দিন তার সাথে করে কোন ছেলেকে নিয়ে তার ভাড়া ফ্ল্যাট বাসায় প্রবেশ করতে গিয়ে বাড়ির দারোয়ানের দ্বারা বাঁধার সম্মুখীন হয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে কোন ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবং ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তা মিথ্যাচার বলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে উপস্থিতি জামায়াত নেতাদের বক্তব্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মামলা থেকে এলাকাবাসীরদের নিষ্কৃতি দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। একই সাথে তাদের দ্বারা এলাকাবাসীকে দেওয়া চাকরি এবং স্থানীয়দের সন্তানদের চাকরির জন্য তারা ফোন করে দিলে চাকরি হয়ে যাবে বলেও বক্তব্যে শোনা যায়।

অপরদিকে জোবড়া গ্রামে ঐ মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাখান করে সেখানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদকের বক্তব্যের জন্য এক বিবৃতিতে দুঃখপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে জামায়াত নেতার দাওয়া বিরূপ বক্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রী সুমাইয়া সিকদার বলেন, যে ব্যক্তি বক্তব্য দিয়েছে সে একজন সাবেক শিক্ষক এবং সে একই সাথে একটা রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্ব। সে জায়গা থেকে তার এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই। এবং সে যে মিথ্যাচার করেছে এ জন্য তাকে চার্জ করা হোক। এইটাই হচ্ছে আমাদের চাওয়া। কারণ অলরেডি যেভাবে ঘটনার মোড় ঘুরতেছে তারা আরও হচ্ছে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে একটা দায়িত্বশীল জায়গা থেকে, এটাতো আমরা তাদের কাছ থেকে চাইনা। এবং আমরা না চাইলেও আসলে তাদের যে রাজনীতি ঐটাই ওরা বার বার করতেছে, মানুষের ওপর যে জুলুমের রাজনীতি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেক শিক্ষার্থী মোছাদ্দিকুর জামান আল মামুন বলেন, আমরা ঘৃণা ভরে জামায়াতের এই মিথ্যাচারী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। আমাদের বোনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘটনার ন্যারেটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই দোষীদের শাস্তি হোক এবং এটাও ক্লিয়ার করে বলতে চাই, চবি কারোর বাপ-দাদার জমিদারি নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের, আমরাই এর জমিদার।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪