স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে শেষ হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা। টানা তিন দিন ধরে চলা এ নির্বাচনের ব্যালট গুনতে লাগল ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময়।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোট গণনা শেষ হয় বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সোহেল আহমেদ। গণনা শেষ হলেও ফলাফল প্রকাশ করা হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ওই দিন রাত সোয়া ১০টায় শুরু হয় গণনা।
এদিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশনের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। মুহূর্তেই এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষার্থীরা। সিনেট ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট অভিযোগ করেন, জাকসু বানচালের ষড়যন্ত্র সফল না হওয়ায় বিএনপিপন্থি শিক্ষক মাফরুহী সত্তার পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনাকে দায়িত্বহীনতা আখ্যা দিয়ে নিন্দাও জানায় সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট। এরপর শনিবার দুপুর ২টার দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আরেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই সময় পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ব্যালট পেপার গোনার কাজ শেষ হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ফল ঘোষণা করা যাবে বলে তারা আশা করছেন।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার জন্য কয়েক দফা সময় পেছায় নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘসময় ধরে চলা ভোট গণনা কার্যক্রমে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে এক শিক্ষিকা মারা গেছেন।
একইদিন ধীর গতির পরিপ্রেক্ষিতে ভোট গণনা বন্ধ রেখে জরুরি বৈঠক করেন জাবির ভিসি অধ্যাপক কামরুল আহসান।
পরে টেবিল বাড়ানোর পাশাপাশি অধিক জনবল কাজে লাগিয়ে গণনায় গতি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। রাতের মধ্যে ভোট গণনা সম্পন্ন হবে এবং যথারীতি ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি। কিন্তু শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোট গণনা শেষ হয়।
জাকসুতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭। এর মধ্যে ছাত্র ছয় হাজার ১১৫ জন এবং ছাত্রী পাঁচ হাজার ৭২৮ জন। এর প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনভর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কয়েকটি হলে দীর্ঘ লাইন থাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়।
পরে সেসব ব্যালট বাক্স হল থেকে সিনেট ভবনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাত ১০টার পর থেকে ভোট গণনা শুরু করেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোটগ্রহণ হয়েছে ওএমআর ব্যালটে। ভোট গণনা করার কথা ডিজিটাল মেশিনে। সেই সিদ্ধান্ত বদলে হাতে গোনা হচ্ছে ব্যালট। জাকসু নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বদলকেই ভোটগণায় বিলম্বের কারণ হিসেবে দায়ী করছেন জাবি শিক্ষার্থীরা।
তবে ভোট গণনা পদ্ধতি পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য পক্ষের সাথে আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের নেতারা।
নির্বাচনের দিন (১১ সেপ্টেম্বর) পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. শেখ সাদী ও বাগছাস সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম দাবি করেন, ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে।
বিভিন্ন পদে মোট ১৭৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব