চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দর্জির দোকানের কর্মচারী থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠা আলতাফের বিরুদ্ধে জবরদখল, সরকারি সম্পত্তি দখল, মুক্তিযোদ্ধার ঘর ভাঙা ও ভুয়া কাগজপত্রে ভারতীয় নাগরিকদের নামে জমি ক্রয়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক মো. মনির হোসেন ওরফে আঃ কাদের মোল্লা, হালিমা বেগম এবং মুক্তিযোদ্ধা সুবল শাহ।
অভিযোগকারীরা জানান, আলতাফ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের দখলদার গোষ্ঠীর সহযোগিতায় সরকারি গাছ কাটা, ভুয়া কাগজপত্রে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও মানি লন্ডারিংসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরভদ্রাসনের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী গ্রামের বিশ্বাস পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে জমি ভাগাভাগি করে ভোগ দখল করে আসছিল। পরে তারা প্রয়োজনে জমি বিক্রি করে এবং ২০০০-২০০৫ সালের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় ক্রেতা, যেমন আব্দুল হালিম বেপারী, ওসমান বেপারী, আব্দুল মান্নান মোল্লা, মনির হোসেন (আঃ কাদের), হালিমা খাতুন ও সিকদার পরিবার বৈধভাবে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস শুরু করেন।
এদিকে বিশ্বাস পরিবারের কয়েকজন ওয়ারিশ ভারতে চলে গিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর ২০২২ সালে আলতাফ ওই পরিবারের কিছু জমি ক্রয় করে। পরবর্তীতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের নামে একাধিক দলিল তৈরি করে দাবি করেন যে স্থানীয় বসতবাড়ির ভেতরেই তার জমি রয়েছে। তিনি শুধু দাবি নয়, দাতাদের অন্যান্য জমিও জবরদখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি রাস্তার জায়গাও আলতাফ দখল করে সেখানে পাকা বাউন্ডারি নির্মাণ করেছেন। এর ফলে গ্রামীণ রাস্তায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও তার প্রভাব ও টাকার কাছে প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষক আঃ কাদের মোল্লার পুরনো ঘর ভেঙে সেখানে নতুন পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করে আলতাফ। ৫ আগস্টের পর কিছুদিন দুর্বল থাকলেও আবারও আগের মতো প্রভাব বিস্তার শুরু করে তিনি। গত মাসে আঃ কাদের মোল্লার বাড়ির ছাদ ঢালাই চলাকালে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি করিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এসময় আলতাফের লোকজন বাড়িতে হামলাও চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় সালিশের পরামর্শ দেয়। তবে আলতাফ সালিশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা তহসিলদারের মাধ্যমে তদন্ত রিপোর্টেও প্রভাবিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অসহায় শিক্ষক আঃ কাদের মোল্লা জানান, "আমি আমার বৈধ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছি না। আলতাফের দাপট আর টাকার কাছে আমরা সবাই অসহায়। এখন অসম্পূর্ণ বাড়ি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।"
রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা