| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নদী খননে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ইং | ০৬:২৭:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৯০৪৪৭ বার পঠিত
জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর :
প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্প চলমান থাকলেও জামালপুরের বন্ধ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নদী ভাঙন। প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। 
জানা যায়, নদী ভাঙন রোধ ও নদের নাব্যতা ফিরে আনতে  ২০১৯ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্যোগ নেয়। 
ময়মনসিংহ থেকে ২২৭ কিলোমিটার নদী খননের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। দুই হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজার অংশে নদের ২২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজ করা হয় । ইতোমধ্যে খননকাজ সমাপ্তও হয়েছে। 
দুই হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার খননের পরও জামালপুরে ইসলামপুর উপজেলা চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর, চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪নং চর ও মেলান্দহ উপজেলার টুপকার চরসহ পুরাতন  ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থানে তীব্র নদী ভাঙন চলছে । 
চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে কয়েক'শ একর ফসিল জমি এবং শতশত বসতবাড়ি । বসতবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়েছেন শতশত পরিবার। 
সফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় জন বলেন, 'গত বছর ড্রেজার দিয়ে খুদিছে (খনন করছে) বছর না ঘুরতেই যা আর তাই অইছে।' অর্থাৎ খনন করার পর পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে নদের গভীরতা, চলমান রয়েছে নদী ভাঙন । 
তিনি আরো বলেন, অথচ নদের গভীরতা ও ভাঙন রোধে বিশাল এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। 
মেলান্দহ উপজেলার ডেফলা ঘাট এলাকার আফসার উদ্দিন বলেন, এটা তো নদী খনন না। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজনদের বালুর ব্যবসা আর সরকারি টাকায় পকেট ভরার নাটক ছিল।
টুপকারচর গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, শুস্ক মৌসুমে নদের বেশির ভাগ এলাকা স্রোতহীন এক মরা খালের পরিনত হয়। আর বর্ষা মৌসুমে নদের দু'কোল ছাপিয়ে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদের গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। 
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষের অভিযোগ , হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে নদী খননে কোনো লাভ
হয়নি। খননের পর নদের ভাঙন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। 
এলাকাবাসী বলেন, আমরা নানাভাবে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু টাকা পাচারে মত্ত ওই সময়কার ফ্যাসিবাদের কান পর্যন্ত পৌঁছেনি আমাদের প্রতিবাদ।
ব্রহ্মপুত্র নদ খননের ব্যাপারে হতাশ জামালপুরের মানুষরা। জেলার ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর মোহাম্মদপুর গ্রামের বালুর চরের আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, বাড়ির সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদটি খনন করা হচ্ছে। কিন্তু নদের কোনো পরিবর্তন হয়নি।  
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানাযায়, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, যাতে সারা বছর ধরে নদের বুকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। শুস্ক মৌসুমে ৯০ মিটার প্রস্থে ৬ থেকে ১০ ফুট গভীরতায় পানি থাকবে। ফলে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে উন্নীত হবে। কৃষিকাজেও নদের পানি ব্যবহৃত হবে। গভীরতার জন্য বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন রোধ হবে।
গতকাল সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমান। 
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪