চন্দ্রাবতী, মুঠোফোনে কেবলই তোমার ক্বাসিদা
‘হ্যালো!’
‘তুমি কি চন্দ্রাবতীকে চেনো?’
‘চিনি।’
‘তাহলে তো তোমার কাছেই যেতে হবে।’
নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জু দুবে কাঞ্চলী।
ইংরেজি সাহিত্য পড়ে। একদা কবিতা কুমারীর প্রেমে পড়া যুবক,
কবিতাকন্যা নিয়ে বুড়িগঙ্গার স্বচ্ছজলে দেখেছিল দশমীর চাঁদ।
জলে ভাঙা চাঁদ। জীবনবাবুকে নিয়ে ঘনঘোর রাত। চিৎপাত
নৌকোর গলুইয়ে শুয়ে জেনে নেয় বাৎসায়নী পাঠ। ও কুমারী
কি অরিন্দম জননী সামসাদ?
হতে পারে সবকিছু। কিছুদিন ভালোবাসার পুঁথিপাঠ, তারপর
কাতর যুবক এক দুই তিন হিসেব করে দিবারাত্রির পতন।
মৃচ্ছকটিকে জমে না-ফেরা সংগীত। বুড়িগঙ্গার জল
ধারণ করে ঘনকৃষ্ণ ছায়ায়। নীল পালিয়ে যায়।
সাদা মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে স্বপ্নের চাঁদোয়া। মঞ্জু, তুমি
এখন কোথায়? কবিতার কারিগর।
অরিন্দম জননী সামসাদ। প্রগলভা বঙ্গীয় রমণী। পতিকে
জানে ঈশ্বর। সংসারের জটিল নিয়ম জেনে লাভ কী?
সারল্য বিছিয়ে দিয়েছে সংসারে, কবি তাকে দিয়েছে অনেক...
চিনেছে সহস্র শব্দের কাঁটায়। তারপরও
কেমন সুখপাখি হেঁটে বেড়ায়।
আহারে মধ্যবিত্ত জীবন।
এতদিন পর মুঠোফোনে মঞ্জুর নির্লিপ্ত জিজ্ঞাসা।
‘চন্দ্রাবতী আমার বিষয়।’
‘বলেছিলে।’
‘বললে না কিছু?’
‘কী বলব!’
‘তাই তো।’
‘এতদিন পর।’
‘মনে রেখেছি।’
‘তাই!’
‘চন্দ্রাবতী পড়তে গিয়ে বারম্বার তোমাকে মনে পড়ছে।
কী তরুণ যুবক! একরাত মৈথুনের কারুকাজ শিখে ভুলে
গেছি যৌবনের পাঠ। আহ!’
‘ইসকুল শিক্ষিকার নস্টালজিয়া।’
‘ধ্যাৎ, তুমি বিরহী যুবকের মতো কথা বলো।’
‘এশিয়ান পোয়েট্রি ফেস্টিভালের জমজমাট আসরে
তরুণ কবিকে নিয়ে মঞ্জুর যত স্বপ্নজাল বোনা।’
‘রাষ্ট্রিক সীমানা পৃথক করে দিয়েছে তরুণ-তরুণীর
প্রণয় অবতারণিকার পাঠ।’
‘খোঁড়াযুক্তি।’
‘এটাই সত্যি।’
‘একরৈখিক।’
‘আচ্ছা বুড়িগঙ্গার জল কি স্বচ্ছসলিলা?’
‘না, বুড়িগঙ্গার জলে রাসায়নিক বিষ। পাড়ের
বাসিন্দা যুবক জল খেতে চায় না। পান করে কেমিক্যাল পানীয়।’
‘রবিঠাকুর বলেছে, যেদিন গ্যাছে! হায়!’
নাম : চন্দ্রাবতী, কবি
পিতা : কবি দ্বিজ বংশী দাশ
পেশায় : কৃষক
সাং : পাতুয়ারী, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
গ্রন্থ : দস্যু কেনারামের পালা, মনসা দেবীর গান, মনসা ভাষা,
মলুয়া (কারো কারো মতে মলুয়া উপাখ্যান চন্দ্রাবতীর রচনা)
প্রেমিক : জয়চন্দ্র, কায়স্থ ব্রাহ্মণ।
‘চন্দ্রাবতীর জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে।’
‘আমার হয় না।’
‘কেন?’
‘জয়চন্দ্র কুলীন ব্রাহ্মণ। শঠতা, ছলনা জানে। চন্দ্রাবতী
শুধু প্রেমী। ভালোবাসার গরল ধারণ করে হয়েছে কবি।’
‘কে বেশি পাতক?’
‘জয়চন্দ্র, সমাজ।’
‘বুড়িগঙ্গার জলে স্বপ্ন হন্তারকও থাকে।’
‘চন্দ্রাবতীর কবিতা উপাখ্যান হয়ে যায়। হিমালয় জুড়ে
হিমযুগ নেমে আসে নবীন চন্দ্রার আত্মায়। কবি শুধু
কড়িকাঠ গোনে।’
সুনসান নীরবতা। মুঠোফোনে গাঢ় নৈঃশব্দ্যের পাখি
উড়তে উড়তে আকাশ ছুঁয়ে যায়।
‘আমার কষ্ট বাড়ছে।’
‘কেন?’
‘তোমার জন্য। চন্দ্রাবতীর জন্য।’
‘হায় চন্দ্রাবতী! এতদিন পর!’