| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালিগঙ্গায় মাটি বাবরের অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিহত করলো এলাকাবাসী

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ইং | ১৩:০৫:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১৫০০৩১৮ বার পঠিত
কালিগঙ্গায় মাটি বাবরের অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিহত করলো এলাকাবাসী
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর কুস্তা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটিং মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল বাবর ও তার লোকজন। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় বাধা দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। সর্বশেষ গ্রামবাসীর ধাওয়ায় খনন যন্ত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বাবরের লোকজন। এরপর থেকে মাটি-ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধামকির  কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বসতি এলাকায় এভাবে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে বাড়িঘর, আবাদি জমি ও ফসলি খেত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বহুবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেও সুফল না পাওয়ায় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে মাটি-বাবরের লোকজনকে সরিয়ে দেয়।

অভিযুক্ত বাবর (৩৩) সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। অভিযোগ আছে, তার নেতৃত্বে একাধিক ভেকু ও কাটিং মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে চলছে।

স্থানীয়রা জানান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল বাশারের হাত ধরে বাবর এই বালুর ব্যবসায় নাম লেখান। দীর্ঘদিন বাশারের হয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করলেও বর্তমানে তিনি এককভাবে ড্রেজার চালিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় বালু সরবরাহ করছেন। এই কাজে তার রয়েছে ডজনখানেক সদস্যের নিজস্ব বাহিনী।

ভুক্তভোগী আলিমুদ্দিন বলেন, “ ড্রেজারের কারণে আমার ছয় বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এতবার বাধা দিলেও তারা উল্টো আমাদের ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। আমি এখন নিঃস্ব। ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী আবু সাঈদ জানান, তার কয়েক বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

গ্রামের বাসিন্দা নোয়াই, মতিন, নইমুদ্দিন, ওমর, সইদা, হেকমত আলী, শহীদ বলেন, “আমাদের বসতবাড়ির পেছনেই দিনরাত মেশিনের শব্দে শান্তি ছিল না। বাড়িঘর ভেঙে যাবে ভেবে আতঙ্কে ছিলাম। অবশেষে একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তুললে মাটি বাবরের লোকজন মেশিন সরিয়ে নেয়। তবে এখনও তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাবর বলেন, “ওই কাটিং মেশিন আমার নয়, শ্রীধামনগরে যারা সরকারিভাবে কাজ করছে তারাই বসিয়েছে।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ ড্রেজার প্রতিহত করতে এলাকাবাসীকে আমরা জানিয়েছি। প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪