| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে মৃত্যু ১ শিশুর, খাদ্য বঞ্চিত ১২ লক্ষ; অনাথ ৫৮ হাজারের বেশি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৮, ২০২৫ ইং | ১১:৫১:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৩২১১৬ বার পঠিত
গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে মৃত্যু ১ শিশুর, খাদ্য বঞ্চিত ১২ লক্ষ; অনাথ ৫৮ হাজারের বেশি
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :  ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ১২ লক্ষেরও বেশি শিশু খাদ্য থেকে বঞ্চিত, এবং ৫৮,৫৫৪ জন শিশু অনাথ হয়েছে। 

চলমান সংঘাতে, যা রাষ্ট্রসংঘের তদন্ত কমিশন কর্তৃক 'গণহত্যা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, ৯,১৪,১০২ জন শিশু শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত এবং ৫,৫৮০ জন শিশু জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। 

রিপোর্টে প্রকাশ, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২০,১৭৯ জন শিশু নিহত হয়েছে, যার অর্থ গাজায় 'প্রতি ৫২ মিনিটে' একটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। নিহত শিশুদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স ছিল এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের পাঁচ বছরের নিচে এবং ৪২০ জন শিশু 'যুদ্ধ চলাকালীন জন্মগ্রহণ করে নিহত' হয়েছে। 

শিশুদের মধ্যে টিকাকরণের হার ২০২২ সালের ৯৮.৭% থেকে কমে ২০২৫ সালে ৮০% এ নেমে এসেছে এবং ১,১০২ জন শিশুর অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের কমিশন ইসরায়েলের এই কাজকে 'গণহত্যা' ঘোষণা করা সত্ত্বেও এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার পরেও গাজা উপত্যকায় বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। আল-জাজিরা ইংলিশের ৮ অক্টোবর, ২০২৫-এর আপডেট অনুযায়ী, দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত, টন টন বিস্ফোরক বোঝাই সাঁজোয়া যানের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে গাজা শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা যুদ্ধবিরতি আলোচনার তৃতীয় দিনেই ঘটল। 

৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৭,১৭৩ জন নিহত এবং ১,৬৯,৭৮০ জন আহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে ৩০% শিশু, ১৬% নারী, ৭% প্রবীণ এবং ৪৭% পুরুষ। এই সময়ে মোট ৮,৯১০টি পরিবার গণহত্যার শিকার হয়েছে, দৈনিক গড়ে ১৩টি পরিবারের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে। ২০২৫ সালে ৪,১৬৩টি গর্ভপাত, ২,৪১৫টি অকাল জন্ম এবং ২৭৪টি নবজাতকের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৩ সালের ৪ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪০৮-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১৫৭ জন (৩৪.১%) শিশু। আগস্ট ২০২৫-এ ৫ বছরের কম বয়সী মোট ১৪,৩৮৩ জন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে ৩,৪৬৬ জন গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে (জানুয়ারি ২০২৫-এ যা ছিল ৪৫২)। 

গাজার ৩৮টি হাসপাতালের সব ক'টি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার মধ্যে ২৫টি 'অকেজো' এবং মাত্র ১৩টি আংশিকভাবে সচল; ১৫৭টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি 'অকেজো' অবস্থায় রয়েছে। সেপ্টম্বর ২০২৫-এ মাসিক হাসপাতালের বিছানা ব্যবহারের হার ৮২% (২০২৩) থেকে বেড়ে ২২৫.৫% এ দাঁড়িয়েছে এবং হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যা ৩,৫৬০ (২০২২) থেকে কমে ১,৫৭৮ (২০২৫) এ নেমে এসেছে। এছাড়াও, ১,৭০১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন, ৩৬২ জন ইসরায়েলি হেফাজতে রয়েছেন এবং ২১১টি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে ৭টি MRI মেশিনের সব ক'টি, ১৭টির মধ্যে ১০টি সি টি স্ক্যানার এবং ৩৫টির মধ্যে ২৫টি অক্সিজেন স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। গাজার ২৬০টি জলের কূপের মধ্যে মাত্র ১১৬টি এখন সচল রয়েছে এবং দৈনিক মাথাপিছু পানির ভাগ ৮৪.৬ লিটার থেকে কমে পাঁচ লিটারে দাঁড়িয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসসি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪