| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুঁড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১১, ২০২৫ ইং | ১৩:১৭:৪৯:অপরাহ্ন  |  ১৪২২৭৯৯ বার পঠিত
ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুঁড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম
ছবির ক্যাপশন: সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েল থেকে মুক্তি পাওয়া শহিদুল

স্টাফ রিপোর্টার: ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জানিয়েছেন, তাদের ওপর মানসিক অত্যাচার বেশি করা হয়েছে। জেলের ভেতরে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছে। এমনকি হামাসের সমর্থক দাবি করে তাঁদের একজন সহযাত্রীকে গুলি করে মারারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের আটক দশা থেকে মুক্ত হয়ে তুরস্ক থেকে শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেশে ফেরেন শহিদুল আলম। এদিন বিকেলেই নিজের বন্দীদশার অভিজ্ঞতা জানাতে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। সেখানেই বন্দী সময়ের অভিজ্ঞতা জানিন শহিদুল।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল আলম বলেন, ‘আটক করে জাহাজ থেকে নামানোর পর আমাদের হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে যেখানে হাঁটুমুড়ে বসানো হয়েছিল, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী আগে থেকে মূত্রত্যাগ করেছিল। এরপর তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইসরায়েলি বাহিনী মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তিনি যতবার সেটি তুলেছেন ততবার তাঁর ওপর চড়াও হয়েছে। সেসময় নিজেদের মধ্যে কথা বলায় অন্য দুজন সহযাত্রীকে মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহিদুল আলম জানান, মরুভূমির মধ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে গোপনীয় কারাগারে তাঁদের রাখা হয়। সেখানে অন্য জাহাজ থেকে আটক হওয়া আরেকজন সহযাত্রী তাঁকে জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ওই ব্যক্তিকে আটক করার পর বলেছিল ‘তুমি হামাসের এজেন্ট, ভেতরে নিয়ে তোমাকে গুলি করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, কারাগারে তাঁরা অনশন করেছিলেন। কোনো খাবার খাননি। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েকজন খাবার খেয়েছেন। আড়াই দিনে তাঁদের মাত্র এক প্লেট খাবার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের যেখানে শুতে দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল লোহার, শৌচাগারগুলোর অবস্থাও ছিল শোচনীয়। গভীর রাতে হঠাৎ করে ইসরায়েলি বাহিনী মেশিনগান নিয়ে সেলের মধ্যে ঢুকে যেত। তারা জোরে আওয়াজ করত, চিৎকার করে দাঁড়ানো বা অন্য আদেশ দিত এবং আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করত।

এ সময় একজন সাংবাদিক পরবর্তী পরিকল্পনা জানতে চাইলে শহিদুল আলম বলেন, ‘অসাধারণ কিছু ব্যক্তি একসঙ্গে হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এখন আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক দাঁড় করাব। যেহেতু গ্লোবাল লিডাররা করবে না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে করতে পারি সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।… একটা ব্লুপ্রিন্ট আমরা করে রেখেছি এবং আমরা ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আবার আমরা যাব এবং হাজারটা জাহাজ যাবে।’

দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমাদের দেশে যেটা করেছি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাস্তায় নেমেছি, আন্দোলন করে এ রকম একজন স্বৈরাচারকেও আমরা হঠাতে পেরেছি। এখানেও সেই জিনিস, আন্তর্জাতিকভাবে সেরকম একটা জিনিস করা দরকার।’

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪