নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলমের বিদ্যালয় পরিদর্শন কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় নিয়মিত সফরসঙ্গী থাকেন একই উপজেলার চরবৈশাখী থানার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ। এতে তাঁর নিজ বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১২ অক্টোবর ২০২৫) সকালে কাটাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মা প্রধান অতিথি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ।
প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই অনুষ্ঠানে তিনি কেন উপস্থিত ছিলেন?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ বলেন, “স্যারকে মোটরসাইকেলে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে দিয়েছি, এরপর আমি আমার স্কুলে চলে এসেছি।”
তবে তিনি মাঝে মাঝে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “স্যার ফোন দিয়ে গেলে আমি যাই, এটা কোনো নিয়মিত কাজ নয়।”
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, এমদাদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অঘোষিত “গাড়িচালক” হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু ওইদিন সকালে অনুষ্ঠানস্থলে তোলা ছবিতে দেখা যায়, তিনি ও শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
একাধিক শিক্ষক জানান, কোনো কর্মকর্তা ফোন করলেই শিক্ষকদের বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়া অনুচিত। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য সরকার থেকে নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়; তাই এ ধরনের কাজের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে অফিসারদের সঙ্গে পাঠানো নিয়ম বহির্ভূত। বিষয়টি অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন