| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গাজীপুরে মহাসড়ক ঘিরে চোরাই জ্বালানি তেল ব্যবসার ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৪, ২০২৫ ইং | ১৬:২৩:৪২:অপরাহ্ন  |  ১৪২০২৯৭ বার পঠিত
গাজীপুরে মহাসড়ক ঘিরে চোরাই জ্বালানি তেল ব্যবসার ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের বাসন অংশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের দোকান

গাজীপুর প্রতিনিধি:  ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর বাসন অংশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একের পর এক চোরাই জ্বালানি তেলের দোকান। 

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাসোয়ারা (মান্তি ) দিয়েই এসব ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। মহাসড়কের দু'পাশেই সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা এসব দোকানে প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের গাড়ি থেকে প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত রবিবার মহানগরীর বাসন থানাধীন নাওজোড় ও কড্ডা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের এসব দোকান। মহাসড়কের পাশে থেমে থাকা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী পরিবহনের চালক- হেলপাররা পাইপ দিয়ে ট্যাংক থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল নামিয়ে বিক্রি করছেন। এ কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন গার্মেন্টস কর্মী ও পথচারীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত একের পর এক গাড়ি দাঁড় করিয়ে বালু ও তেল নামায়। এতে যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। রাস্তায় চলাচল করা পথচারীরা প্রতিবাদ করলে বালু ব্যবসায়ী ও তেল দোকানদাররা গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দেন। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গেও করা হয় দুর্ব্যবহার।

 জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা ঝুঁপড়ি ঘরের মতো এসব দোকানের নেই কোনো সাইনবোর্ড, নেই বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র কিংবা আইনসঙ্গত লাইসেন্স। 

তবে অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় মুরসালিন এর চোরাই জ্বালানি তেলের দোকানের কিছু দূরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর (জিয়া,রাকিব,সালাম, ওবায়দুল) ও কড্ডা এলাকায় (আমির, নূরুল ইসলাম) চোরাই জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাত্র ৭ জনের একটি সিন্ডিকেট পুরো ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করে। 

পুলিশকে মাসোয়ারা (মান্তি) দেওয়ার পাশাপাশি কিছু সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকেও টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব দোকান দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

এক ট্রাকচালক বলেন,'আমরা চায়ের দোকানে বসলেও মানুষ ভাবে তেল বিক্রি করছি। এজন্য এই এলাকায় গাড়ি থামানো ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, 'আমরা তো কম দামে কিনে ন্যায্য দামে বিক্রি করি। চোর হলো চালকেরা। পুলিশ থেকে শুরু করে সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করতে হয়।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, দোকান খোলা রাখতে মাসিক (মান্তি) নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসির নাম ভাঙিয়ে জ্বালানি তেল দোকানদার 'আমির' ও 'মুরসালিন' নামের দুই ব্যক্তি দোকানিদের কাছ থেকে মাসিক ১১ হাজার টাকা করে কালেকশন করে। তাদের দুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে ওবায়দুল নামে আরেক দোকানদার এবং প্রতিদিন টহল পুলিশকে একশত টাকা করে দেন দোকানদাররা। এছাড়া সাংবাদিকদেরও নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়, নইলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্বালানি তেল বিক্রেতা জানান, থানায় মাসিক (মান্তি) কালেকশন হিসেবে প্রতিটি দোকান থেকে নিদিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। প্রত্যেক দোকান থেকে টাকা তোলার দায়িত্বে থাকে আমির ও মুরসালিন এরা দুইজন। আমির দোকান প্রতি ১১ হাজার টাকা করে তুলে মুরসালিনকে দেয়। 

তিনি আরো বলেন আমি যতটা জানি, ওসির বডিগার্ড বুলবুল হলো মুরসালিনের এলাকার লোক, আর আমিরের শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক রয়েছে। ওই ব্যবসায়ী আরো জানান, বাসন থানার ওসি শাহীন খানকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় এটা আমাদের সবাই জানে। টাকা না দিলে দোকান চালানোই মুশকিল।

মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে চোরাই জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রি হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ঘটনা অস্বীকার করে জ্বালানি তেল বিক্রেতা আমির বলেন, আমার কোনো তেলের দোকান নেই, আমি মুরসালিন কেউ চিনি না, এইসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

গাজীপুর চৌরাস্তা মর্ডান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো: ইকবাল হাসান বলেন, এসব ছোট খাটো তেলের দোকানে অনুমতি দেওয়ার বিধান আমাদের নেই, বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে আসলে আমরা লাইসেন্স বা ছাড়পত্র  দিই। এছাড়া অনুমতি ছাড়া খোলা বাজারে তেল ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শাহিন খান বলেন, বুলবুল নামে আমার কোনো বডিগার্ড নেই। বুলবুল ও থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে মাসিক কারেকশন করে জানতে চাইলে ওসি শাহিন খান বলেন, আমার নলেজে নাই, আমি আজকে বিকেলে কি করি দেখেন, আজকে নিউজ কইরেন না কালকে নিউজ করেন আর ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকে অনেক কিছু করে। আজকে অপারেশন করি তারপর যা করার কইরেন।

 রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪