সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিংমলের সম্পা জুয়েলার্সে ৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় করা মামলায় শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া, নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) ও অনিতা রায়কে (৩১) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) তাদের চারজনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অন্যদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নুরুল ইসলাম, উত্তম চন্দ্র সূর ও অনিতা রায়কে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার মূল সিডি না থাকায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব। একইসাথে রিমান্ড শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৭২ ঘণ্টা টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে এই চার জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৯০ ভরি স্বর্ণ, সামান্য রূপা, একটি মোটরসাইকেল এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গত (৮ অক্টোব দিবাগত রাতে মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের শম্পা জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রমনা থানায় চুরির মামলা করা হয়। ঘটনার পরপরই ডিবি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়। আসামীরা গত তিন মাস ধরে ফরচুন শপিং মলের স্বর্ণালংকার চুরির পরিকল্পনা করে সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বেশ কয়েকবার রেকি করে। চুরির উদ্দেশ্যে তারা হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগে থেকেই মার্কেটের পেছনে টিনের চালের নিচে লুকিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন দিনের বেলায় আসামি সুমন মার্কেটে প্রবেশ করে বাথরুমের জানালার গ্রিলে সুতার মাধ্যমে ‘ইউ’ লুপ তৈরি মাটি পর্যন্ত নামিয়ে বেঁধে রাখে এবং চুরির সময় নিজেদের মুখ ঢেকে রাখার জন্য বাথরুমে বোরকা রেখে আসে। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আসামিরা গণপূর্ত কোয়ার্টারের ভেতর দিয়ে মার্কেটের পেছনে পৌঁছে। পূর্বে বাঁধা সুতার সঙ্গে দড়ি বেঁধে তারা ছাদে উঠে গ্রিল কেটে বাথরুমের ভিতরে প্রবেশ করে। বোরকা পরিহিত অবস্থায় বাথরুমের দরজা ভেঙে শপিং মলে প্রবেশ করে এবং শম্পা জুয়েলার্সে চুরি করে ভোর সাড়ে ৪টায় একই পথে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা ব্যবহৃত বোরকা ও সরঞ্জাম গণপূর্ত কোয়ার্টারের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে যায়।
ডিবি প্রধান বলেন, এ ঘটনায় ধারাবাহিক অভিযানে প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে শাহিন মাতাব্বর ওরফে সাহিদ ওরফে শাহিনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। শাহিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১২১.০৭ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বরিশালের উজিরপুর থানার পূর্ব হারতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে করে পলাতক আসামি শৈশব রায় সুমনের স্ত্রী অনিতা রায়ের কাছ থেকে ৫২.৮১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর এক অভিযানে বৃহস্পতিবার রাত ১টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মো. নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ, একটি মোটরসাইকেল এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই দিন অর্থ সরবরাহকারী ও রেকিতে অংশগ্রহণকারী উত্তম চন্দ্র সুরকে শুক্রবার ভোরে শাখারী বাজারের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১৩.৬৭ ভরি স্বর্ণ এবং ৯৩.৫ গ্রাম রৌপ্য উদ্ধার করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি