| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খুলনায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ডিলারদের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২০, ২০২৫ ইং | ১০:৩৮:৪১:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৭৫৭০৮ বার পঠিত
খুলনায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ডিলারদের

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের করে ভুক্তভোগী ওএমএস ডিলার এবং এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান (ডিসি ফুড) তানভীর হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওএমএস কার্যক্রম, মিলারদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় এবং খাদ্য বিতরণে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতিতে জড়িত হয়েছেন। প্রতি ২০ টনের খাদ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিতভাবে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি অতীতে তিনি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত দেড় মাসে তানভীর হোসেন খুলনার অভিজাত হোটেল ‘সিটি ইন’ ও ‘টাইগার গার্ডেন’-এ অবস্থান করে অফিসের বাইরে থেকেও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেছেন। এ সময় মহানগরের ৩১টি ওএমএস পয়েন্ট থেকে দৈনিক প্রায় ৬২ হাজার টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

ডিলার খালেদ হোসেন, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মিরাজ, সাধারণ নাগরিক প্রতিনিধি মোহাম্মদ রানা ও ছাত্র প্রতিনিধি আব্দুর রহমানসহ বক্তারা বলেন, “তানভীর হোসেন অফিসের নির্ধারিত সময় না মেনে দেরিতে আসেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি পরিবহন ঠিকাদার, শ্রমিক হ্যান্ডলিং ঠিকাদার ও মিলারদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থেকে মাত্র দুই মাসে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকার ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-খুলনা রুটে ঘন ঘন বিমান যাত্রা, বিভিন্ন ঠিকাদার ও মিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ এবং ওএমএস ইনডেন্ট বাবদ ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত টাকা আদায়ের বিষয়টিও মানববন্ধনে তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপিতে পূর্বের অভিযোগের ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় দায়িত্ব পালনকালে ১১ কোটি টাকার অডিট আপত্তির কারণে তাকে বদলি করা হয়। কিশোরগঞ্জের দায়িত্বে থাকাকালে ভৈরব এলএসডিতে বিপুল খাদ্যশস্য ঘাটতির ঘটনা ধরা পড়ে, যা পরে অনিয়মিতভাবে পূরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে ধান মিলের বরাদ্দ ও বিল প্রদানে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

মানববন্ধনকারীরা জানান, জেলা পর্যায়ে এই ধরনের দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে সরকারি খাদ্য তহবিল ও সাধারণ জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তানভীর হোসেনকে খুলনা থেকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই মানববন্ধনে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের ডিলারশিপের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারা আর অনুমোদিত ডিলার নন।” তিনি আরও জানান, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে আমি আরও পরিষ্কার বক্তব্য দেব।”


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪