রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের জেরে ‘প্রিন্স’ উপাধি হারাতে যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর।
বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানায়, রাজা চার্লস তৃতীয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় সব উপাধি, খেতাব ও সম্মানসূচক পরিচয় প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এর ফলে এখন থেকে তিনি কেবল “অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর” নামেই পরিচিত হবেন।
রাজকীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ প্রাসাদ থেকেও সরিয়ে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে একটি ব্যক্তিগত আবাসনে স্থানান্তর করা হবে, যার ব্যয় বহন করবেন রাজা চার্লস নিজেই। রয়্যাল লজের দীর্ঘমেয়াদি লিজ চুক্তিও বাতিলের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথা ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, কিশোরী অবস্থায় তিনবার প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যদিও অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, তবে ২০১১ সালের কিছু ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর তার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজপরিবার যে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়াদের পাশে রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়েছে।”
অ্যান্ড্রুর দুই কন্যা, প্রিন্সেস ইউজেনি ও প্রিন্সেস বিয়াট্রিস, সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অবস্থান বজায় রাখবেন। তবে অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসন আলাদা বাসস্থানে চলে যাচ্ছেন এবং ‘ডাচেস অব ইয়র্ক’ উপাধি ত্যাগ করে নিজের আগের নাম ফার্গুসন পুনরায় ব্যবহার করছেন।
ব্রিটিশ সরকারও রাজা চার্লসের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বিবিসির এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যৌন নির্যাতনের শিকারদের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা রাজার জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষার এক প্রচেষ্টা, যা “সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু”-র বিতর্কিত অধ্যায়ের ইতি টানতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি