রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : প্রায় নয় মাসের বিরতির পর আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। তবে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বর মাসে পর্যটকরা কেবল দিনে দ্বীপে যেতে পারবেন এবং একই দিনে ফিরে আসতে হবে। রাতের যাতায়াত বা অবস্থান এই মাসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার-আউলিয়া’ নামের জাহাজ দুটি দ্বীপের উদ্দেশ্যে চলার কথা থাকলেও জাহাজ মালিকরা শুরুতে এটি চালু করছেন না। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, “ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার এখনও চালু হয়নি। দিনে গিয়ে দিনে ফেরার শর্তে পর্যটকও পর্যাপ্তভাবে উপস্থিত হবে না। তাই ১ নভেম্বর থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাত্রা করবে না। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আবার যাত্রা শুরু হবে।”
পরিবেশ সংরক্ষণের কড়া বিধিনিষেধ: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ছাড়াই বিআইডব্লিউটিএ কোনো নৌযানকে দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছাড়তে পারবে না। এছাড়া পর্যটকরা কেবল বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট কিনবেন, যেখানে থাকবে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাস। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে প্রবেশের সময় সৈকতে আলো জ্বালানো, হই-হট্টগোল, বারবিকিউ, কেয়া বন বা ফল সংগ্রহ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতি, মোটরচালিত যানবাহন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। পলিথিন বহন, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বোতল বা প্যাকেটও নিয়ে যাওয়া যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ: জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করবে সরকারি নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে কি না। ঘাটে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, টিকেট ও কিউআর কোড পরীক্ষা করা হবে, এবং সরকারের ১২টি নির্দেশনা পর্যটকরা মেনে চলছেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য, এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, এবং দ্বীপটিকে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আদর্শ স্থল হিসেবে গড়ে তোলা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম