| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুবলার চরে বনদুস্যদের ভয় নিয়েই শুরু হলো শুঁটকি মৌসুম

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০২, ২০২৫ ইং | ০৯:৫১:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ১২৮৫৫৯৩ বার পঠিত
দুবলার চরে বনদুস্যদের ভয় নিয়েই শুরু হলো শুঁটকি মৌসুম

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাত। সুন্দরবনের উপকূলের দুবলার চরে শনিবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে দেশের বৃহত্তম শুঁটকি আহরণ মৌসুম। 

আগামী পাঁচ মাস সেখানে অবস্থান করবেন হাজারও জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী। সমুদ্রপাড়ের এই শুঁটকি পল্লীতে ফের জমে উঠবে কর্মচাঞ্চল্য। তবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও দস্যুর ভয় নিয়েই জেলেরা নামছেন সাগরে। কারণ জীবনের ঝুঁকি ছাড়াও তাদের মাথায় রয়েছে ঋণের বোঝা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলেরা কেউ নতুন ট্রলার তৈরি করেছেন, কেউ পুরোনো নৌকা মেরামত শেষ করেছেন। মহাজনের চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কিংবা গয়নাগাটি বন্ধক রেখে জেলেরা এখন সাগরযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। 

ডুমুরিয়ার জেলে রবিন বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছরই ঋণ করে সাগরে যেতে হয়। এবারও পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। জলদস্যুদের উৎপাত ফের বেড়েছে শুনে ভয় লাগছে। অনেকে এবার সুদের টাকা দিতে না পেরে স্বর্ণ বন্ধক রেখেছেন। 

পশ্চিম ‌‌সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাসানোর রহমান জানান, এবারের মৌসুম শুরু হয়েছে ২৬ অক্টোবর থেকে, চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়টায় আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শ্যালারচরে অবস্থান করবেন জেলেরা। এবছর চরগুলোতে জেলেদের জন্য ৯০০ অস্থায়ী ঘর ও ৮০টি দোকান তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুদি, ওষুধ, তেল, সেলুন ও হোটেলের দোকান রয়েছে। এছাড়া মাছ বেচাকেনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০০টি ডিপোর।

তিনি আরো বলেন, গত মৌসুমে এখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি টাকা। এবারও ৭-৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের আশা করছি।

ঘর বা স্থাপনা নির্মাণে জেলেরা বনের কোনো গাছপালা কাটতে পারবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুবলার চরে দেশের মোট শুঁটকি উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে ইলিশ ধরা শেষ হলে বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জেলেরা এখানে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন।

মেহের আলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী ও শ্যালারচর এলাকাগুলোতে স্থাপিত হয় শুঁটকি পল্লী। এখান থেকে দেশব্যাপী পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় শুঁটকি মাছ। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, পাস পারমিট হাতে পেয়েই জেলেরা রওনা হবেন দুবলারের উদ্দেশে। চার-পাঁচ মাসের জন্যই শুরু হচ্ছে তাদের নতুন জীবনযুদ্ধ।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪