| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভাঙ্গায় শিশু কার্ডের চাল জনপ্রতিনিধির পেটে

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২১, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৮০৫৪৫১ বার পঠিত
ভাঙ্গায় শিশু কার্ডের চাল জনপ্রতিনিধির পেটে
ছবির ক্যাপশন: ভাঙ্গায় শিশু কার্ডের চাল জনপ্রতিনিধির পেটে

ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত শিশু কার্ডের চাল দেওয়ার নামে স্বাক্ষর করার পর চাল না দিয়ে অসহায় শিশু পরিবারের সদস্যদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর আস্থাভাজন ও আশীর্বাদ পুষ্ট চেয়ারম্যানসহ একই পরিষদের জনৈক ইউপি সদস্য। 


অভিযোগ শিশু কার্ডের চাল বিতরণে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাগ অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়েছে। জড়িত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের দুরভিসন্ধিমূলক বিষয়টি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান কার্ডধারী সালমা আক্তার।


ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে  জানা গেছে, উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে চুমুরদী ইউনিয়নে মোট ৯৩টি শিশু পরিবারকে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট ভিডব্লিউর আওতায় বরাদ্দ বিতরণের আওতাধীন শিশুকার্ডের  ১ নং ও ২ নং ওয়ার্ডের ৫/৭ জন অসহায় ও দুঃস্হ পরিবার ৫ মাসের ১৫০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের স্বাক্ষর নিলেও চাল দিতে টালবাহানা শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বর। 


নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষের সামনে মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা  পর্যন্ত অবস্হান করেন ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা ঘটনাটি জানতে পারায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষসহ সকল কক্ষ তালাবন্ধ।  উপস্থিত শিশু কার্ডের শিশুসহ ৬-৭ জন উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারী নির্দেশনায় প্রত্যেক উপজেলায় দুঃস্হ মহিলা উন্নয়ন কর্মসুচির (ভিজিডি) আওতায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার তদারকিতে বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে শিশুদের নামে ইস্যু করা কার্ডের চাল চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে বিতরনের বিধান রয়েছে। স্হানীয় এলএসডি কর্মকর্তা ডিওর চাল নির্বাহী অফিসার অনুকূলে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবগত করে স্থানীয় খাদ্য গুদাম থেকে ইউপি চেয়ারম্যান চালগুলো উওোলন ও সংশ্লিষ্ট কার্ডদারীদের মাঝে বিতরন করেন।


বিগত সরকারের সময়ে দুঃস্হ শিশু পরিবারের মাঝে ১৫০ কেজি চাল ৫ মাস অন্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও নতুন সরকার  কার্ডগুলো বাতিল না করায় পূর্বের কার্ডগুলো বহাল থাকায় ফের নতুন করে শিশুদের নামেই চাল বরাদ্দ আসে। এসুযোগে গত ১৫ মে ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইয়াদ আলী মেম্বার পুরনো কার্ডধারীদের কয়কটি পরিবারের কাছ থেকে ৫ টি স্বাক্ষর রেখে ৫০ কেজির ১ বস্তা করে চাল ধরিয়ে দেয়। কাউকে দুই বস্তার ১০০ কেজী চাল বিতরন করে। আবার কোন উপকারভোগী চাল বিতরণের খবরটি না জানায় ইউপি সদস্য ইয়াদ আলী কৌশলে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে উপস্থিত দুঃস্হকার্ডধারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেবা গ্রহনকারী পরিবারগুলো চাল না পাওয়ায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে  জানালেও কোন উওর পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


অবশেষে শিশু কার্ডের চাল বরাদ্দের অনিয়মের খবরটি ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর মহিলা বিষয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ১৫ মে সরজমিন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে সত্যতার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে জানতে পারেন বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে বলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। কিন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে ৭টি পরিবার শিশু কার্ডের পুরোটা চাল না পাওয়ায় তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


দরিদ্র সালমা বেগম (বিধবা), তাসলিমা  বেগম, লিপি  বেগম ও আকলিমা বেগম  বলেন, মেম্বর ইয়াদের কাছে চাল চাইতে গেলে তিনটা করে স্বাক্ষর নেয়।  কিছু না বুঝতে পেরে স্বাক্ষর করি। চাউল না দিয়েই বলেন তোমরা চাল নিয়ে গেছো। তোমাদের স্বাক্ষর দেখছো না বলে অমানবিক আচরণ করে তাড়িয়ে দেয়।


চুমুরদি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ  এবং ১ নং  ওয়ার্ডের মেম্বার ইয়াদ আলীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে দুজনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।  স্থানীয় একটি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবী তারা করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইলা রানী কুন্ড বলেন, শিশু কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় বিষয়টি দেখার জন্য তাকে পাঠানে হয়ে ছিল। চেয়ারম্যান ও মেম্বর তাকে জানান ভুল বোঝাবুঝির হওয়াতে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ শিশু কার্ডের বিপরীতে চাল না পেয়ে থাকেন তাহলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি দেখবেন।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান  বলেন, সরকারি শিশু কার্ডের চাল বিতরণের কোন অভিযোগ এবং অনিয়মের প্রমাণ হলে কাউকে ছাড় দেওয়া  হবে না।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪