রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : সুদানের উত্তর করদোফানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরা রয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানী আল-ওবেইদ শহরের পূর্বাঞ্চলীয় আল-লুয়াইব গ্রামে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত তাঁবুকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। প্রাদেশিক সরকার এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে এটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর আরএসএফের ‘নতুন অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরএসএফকে অবিলম্বে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএফ নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অপরাধ চালাচ্ছে।
আরএসএফ সম্প্রতি ঘোষণা করেছিল যে, তারা আল-ওবেইদ শহরে হামলা চালাবে, তবে স্থানীয়দের নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করে শহর ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে হামলায় বহু নারী, শিশু ও প্রবীণ নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আরএসএফ সম্প্রতি উত্তর করদোফানের বারা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।
এর আগে, ২৬ অক্টোবর আরএসএফ উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশার দখল করে এবং সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের সংঘাত সুদানের ভৌগোলিক ও সামাজিক বিভাজনকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
সুদান ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তা সফল হয়নি।সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম