| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পদ্মা অয়েলে নিয়োগ পরিক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৪, ২০২৫ ইং | ০৫:৩৩:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ১২৮১১৫৯ বার পঠিত
পদ্মা অয়েলে নিয়োগ পরিক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: পদ্মা অয়েলে নিয়োগ পরিক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া নিয়োগ প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষার নির্ধারিত সময় কমিয়ে দেওয়া এবং তড়িঘড়ি ফল প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ আগস্ট প্রকাশিত চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শনিবার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে পদ্মা অয়েলের এভিয়েশন বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর, মেকানিক, এবং এটেনডেন্ট অপারেটর, ফুয়েলিং পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, এই পরীক্ষায় বেশ কিছু অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। 

এইদিকে উক্ত নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুক্তভোগীর মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা ৪৫ মিনিটে শেষ করা হয় এবং পরীক্ষা শেষের চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের এলাকার ফটোকপির দোকানে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন। 

 গত ১ লা নভেম্বর তিনটা পদের অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল রোববার (২ নভেম্বর) ফলাফল ঘোষণা করে পদ্মা অয়েল পিএলসি। তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৭ জন মেকানিক ১৬ জন এবং এটেনডেন্ট (ফুয়েলিং) পদে ২২ জন উত্তীর্ণ হন। সেখান থেকে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৯ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এডমিট কার্ডে পরীক্ষার সময় ছিল দুপুর তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, অর্থাৎ দেড় ঘণ্টা। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া হয় মাত্র ৪৫ মিনিটে এবং ৪৫ মিনিট পরেই পরীক্ষার খাতা সংগ্রহ করা হয়। এমনকি, পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের আগে জানানো হয়নি, যা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ৪/৫ ঘণ্টায়। লিখিত পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন না থাকলেও, এত দ্রুত ফলাফল নিরীক্ষণ ও প্রকাশ করা কীভাবে সম্ভব? এখানে যারা নিয়োগ পেয়েছে, তারা আগে থেকে সিলেকশন করা। আর ফলাফল আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং দ্রুততার সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। 'জাকির হোসেন সাংবাদিক' নামক এক ফেসবুক আইডির দেয়া পোস্টের মন্তব্যে আবু মোহাম্মদ নোমান নামে একজন মন্তব্য করেন-আমার একজন ক্যান্ডিডেট ছিল, সবগুলো প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পরও তার রোল নাম্বার না দেখতে পেয়ে খুবই হতাশ হলাম। তাহলে মেধাবীরা কিভাবে আগাবে? এই রেজাল্ট বাতিল করে সঠিকভাবে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে, না হয় দুর্নীতিবাজ ম্যানেজমেন্টকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তাহমিদুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেন- 'আমার পরিচিত একজন, পরীক্ষার সবই ওর কমন পড়েছিল, ও খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু রেজাল্ট ফেইল। ও বলল, পরীক্ষার দিন পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার প্রশ্ন দোকানে বিক্রি হয়েছে। প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।' বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এই পাতানো নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগের সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, প্রকৃ ত যোগ্যরা তাদের সম্মানজনক স্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা বলেন, আমরা অবিলম্বে এই প্রহসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল চাই। আমরা কোনোভাবেই পাতানো এই ফল মেনে নেব না। যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিয়ে কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। 

এইদিকে, ক্যাজুয়াল হিসাবে বহুদিন ধরে চাকরি করা, রুবেল, ওয়াজেদুল, ইকরাম, তানিম অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা পরীক্ষায় উওীর্ণ হইয়েছে তাদের কার কাছে বিমানের জালানী সরবাহের কাজের অভিজ্ঞতা নেই এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সোমবার সকাল থেকে সারাদিন তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান এর অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান।

বঞ্চিতরা এই অনিয়মের যোগসাজশের অভিযোগের তীর সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের দিকে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত দক্ষ শ্রমিকদের বাদ দিয়ে, টাকা দিয়ে পছন্দের লোকদের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার রেজাল্টও আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে পদ্মা অয়েল পিএলসি'র মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ ও প্রশাসন) ও শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. জিয়াউল হাসান, শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মীর মোহাম্মদ ফখর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, 'নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং-২ শাখার উপসচিব মো. আহসান উদদিন মুরাদ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া তিনিই দেখছেন এবং তিনি ভালো বলতে পারবেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং-২ শাখার উপসচিব মো. আহসান উদ্দিন মুরাদকেও একইভাবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, রোববার (২ নভেম্বর) পদ্মা অয়েল পিএলসি'র মহাব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. জিয়াউল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়- পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরদিনই অর্থাৎ, সোমবার থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যা ১১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ব্যবহারিক পরীক্ষার স্থান নির্ধারণ করা হয়- চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, পতেঙ্গা গুপ্ত খালে অবস্থিত পদ্মা অয়েলের প্রধান স্থাপনা এবং ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

এদিকে, ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা পরীক্ষাটি বাতিল এবং কর্তৃপক্ষের দ্বারা একটি স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছেন, যাতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়। 

পদ্মা অয়েল কোম্পানির এভিয়েশন বিভাগের এই পদগুলো দেশের রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪