রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিল শহরে ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় ইউপিএসের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে লুইসভিলের মুহাম্মদ আলী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার পরপরই বিমানটির বাঁ ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিমানটি ধসে পড়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায়।
রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলটি ভয়াবহভাবে পুড়ে গেছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, ইঞ্জিনে আগুন লাগার ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যার মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
দুর্ঘটনায় অন্তত এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে, অনেকে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানায়, বিমানে তিনজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিধ্বস্ত স্থানের পাশেই একটি তেল পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা ছিল, যার একটি অংশও আগুনে পুড়ে গেছে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে, রানওয়ের পাশে বিশাল আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় পুলিশ আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করতে এবং এলাকা এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিয়েছে।
ইউপিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এনটিএসবি ও এফএএর সঙ্গে যৌথভাবে তদন্তে সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ্য, ইউপিএসের প্রধান বিমানঘাঁটি লুইসভিলেই অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এই দুর্ঘটনাকে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম