বেনাপোল প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত পথে ফেনসিডিলের পরিবর্তে এখন আসছে নতুন মাদকজাত কাশির সিরাপ ‘উইন কোরেক্স’। মূলত শুষ্ক কাশির চিকিৎসার ওষুধ হলেও, এতে থাকা কোডিন ফসফেট উপাদানের কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নেশাসেবীদের কাছে। দাম কম এবং সহজলভ্য হওয়ায় ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফেনসিডিলের দাম প্রায় চার হাজার টাকা, অথচ ‘উইন কোরেক্স’মিলছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। ফলে পুরোনো কারবারিরা এখন এই নতুন সিরাপের ব্যবসায় ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশে তুলনামূলক কম পরিচিত হওয়ায় পাচারকারীরা একে কাশির ওষুধ হিসেবে প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, ফেনসিডিল ও উইন কোরেক্স উভয়ই কোডিন ফসফেটযুক্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি নষ্ট এবং পুরুষের প্রজননক্ষমতা হ্রাস করে।
ভারতের ল্যাবোরেট ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান এই সিরাপ তৈরি করে। তবে নেশাজাত পদার্থ হিসেবে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এটি ভারতে নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উৎপাদন অব্যাহত আছে এবং চোরাপথে বাংলাদেশে ঢুকছে এই ওষুধ।
পুলিশ-বিজিবির অভিযানে উদ্ধার গত ১ নভেম্বর খুলনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ২২ বোতল উইন কোরেক্স উদ্ধার হয় এবং আবুল কালাম সরদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
১৬ মে সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ বোতল উইন কোরেক্সসহ রাসেল হোসেন (২৪) নামে এক পাচারকারী ধরা পড়ে।
এছাড়া মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভোরে যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ও গোগা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০৭ বোতল ভারতীয় উইন কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করেছে খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ খুরশীদ আনোয়ার বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নেশাসেবীদের ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মাদক প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এক নেশাসেবী জানান, ইয়াবা বা মদের খরচ বেশি। অল্প টাকায় সিরাপ খেলেও কাজ হয়ে যায়, কেউ সন্দেহও করে না।
এদিকে যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আসলাম হোসেন বলেন, আমরা উইন কোরেক্সের নাম নতুন করে শুনেছি। এখনো কাউকে আটক করা না গেলেও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকেই দেশে কোডিনযুক্ত সিরাপের প্রবেশ শুরু হয়। তবে গত দেড় বছর ধরে এর প্রবাহ ও চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম